মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ ০১:৪৭:৪১ এএম

১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ১৮২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল

আইন আদালত | সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ | ০৫:১০:৫৪ পিএম

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ডের রায় পড়া চলছে। ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ১৮২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এর আগে বিডিআরের সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ছিল তৎকালীন সরকারের উৎখাতের পরিকল্পনা বলে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির রায় পড়া চলছে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ‘ঐ সময়ে গোয়েন্দারা বিদ্রোহের তথ্য দিতে কেন ব্যর্থ তা তদন্তে করতে হবে। জওয়ানদের প্রতি ঔপনিবেশিক আচরণও পরিবর্তন হওয়া দরকার।’

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার এক হাজার পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয় রবিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে। বিকেল ৪টার দিকে আজ সোমবার পর্যন্ত রায় ঘোষণা মুলতবি করেন আদালত।

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের অসমাপ্ত রায় পড়া শুরু হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে রায় পড়া শুরু হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

আসামি সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ মামলার রায় তারা পড়া শুরু করেন রবিবার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে। এক পর্যায়ে রায় ঘোষণা দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করে আদালত বলেন, এ মামলার রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার, শতাধিক পর্যবেক্ষণ আছে, ৩ বিচারপতির মধ্যে পর্যবেক্ষণের ভিন্নতা থাকলেও রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে তারা একমত।

এর পর বিরতির পর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী তার হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্তসার পড়ে শোনান। বিকাল ৪টায় বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী তার রায়ের অংশ পড়া শেষ করেন।

২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হয়ে গত ১৩ এপ্রিল ৩৭০তম দিনের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআরের সদর দপ্তরে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয় এবং মামলার বিচার চলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন অস্থায়ী এজলাসে।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকা মহানগর তৃতীয় বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান দেশের ইতিহাসে আসামির সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বিডিআরের সাবেক ডিএডি তৌহিদসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু (মারা গেছেন), স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে খালাস দেন আদালত।

ওই রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ‘ডেথ রেফারেন্স’ হাইকোর্টে আসে। সেই সঙ্গে আসামিরা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল ও জেল আপিল করেন। বিচারিক আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

কয়জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, কয়জন আসামির যাবজ্জীবন বহাল থাকবে, কতজন খালাস পাবেন—এসব দণ্ডের ব্যাপারে তিন বিচারপতিই একমত হয়েছেন বলে আদালত জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পিলখানা হত্যা মামলার রায় নিয়ে রবিবার বেলা দেড়টার দিকে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শুনানি হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে আপিলের রায় পড়া শুরু হয়।

তিনি আরো বলেন, রবিবার হয়তো আসামিদের অর্ডার পোরশন (আদেশের অংশ) দেওয়া হবে। আসামির চূড়ান্ত রায় হবে বলে মনে হয় না। যেসব আসামির দণ্ড বহাল থাকবে বা খালাস পাবেন, কী কারণে দণ্ড বহাল থাকল বা খালাস হলো, তার পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি আদালত তুলে ধরবেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন