বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:৪৮:২৭ পিএম

পেঁয়াজের অস্থির বাজারে অস্বস্তিতে দেশবাসী

অর্থনীতি | মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ | ১১:১৭:১২ এএম

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির বেপরোয়া গতিতে রাজধানীসহ গোটা দেশবাসীর নাভিশ্বাস অবস্থা।

পেঁয়াজের ঝাঁজে ফের কাঁদতে শুরু করেছেন রাজধানীবাসীসহ সারাদেশের মানুষ। গত কয়েক সপ্তাহ রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ -৯০ টাকা দরে। এছাড়া গত কয়েক মাস থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়তিই রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পেছনে নানান যুক্তি দাড় করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮৫-৯০ টাকা দরে। এ ছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজকের বাজারে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারে এই দামের সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। টিসিবির মূল্য তালিকায় দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬৫-৭০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৮-৬২ টাকা দেখা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহের পর কিছুটা কমছে কাঁচামরিচের দাম। গতকাল বাজারে কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। এছাড়া কেজিপ্রতি দেশি রসুন টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১১০ টাকা, আলু কেজিপ্রতি বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কিছুটা বাড়লেও আগের দামেই স্থিতিশীলই রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। গতকাল বাজারে কেজিপ্রতি চীনের আদা ১৪০ টাকা এবং কেরালা আদা ১৫০ টাকা, ছোলা ৮৫ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা, মাষকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার মধ্যে কেজিপ্রতি দারুচিনি ৩৬০ টাকা, জিরা ৪৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১৫০০ টাকা, এলাচ ১৬০০ টাকা, হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্যতেলের দাম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে ব্র্যান্ডভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা, দেশি টমেটো ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা, কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা, আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, পারিজা চাল ৪৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৬০ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫৮ টাকা, আমদানি করা ভারতীয় বিআর-২৮ ৪৮ টাকা, দেশি বিআর-২৮ ৫২, নাজিরশাইল (কাটারি) ৬৩ টাকা, নাজিরশাইল (নরমাল) ৬৫ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা এবং পোলাও চাল ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা।

আর বাজারে ইলিশ আসতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত মাঝারি আকারের ইলিশ হালিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম আগের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন