শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৩৬:০৪ পিএম

অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই, ৩ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

আতিকুর রহমান | জেলার খবর | ঝিনাইদহ | মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ | ১২:৪৩:২৭ পিএম

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় পুলিশের মধ্যে ব্যাপক তোড়পাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

পরে অভিযুক্ত দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহাফুজ, কনস্টেবল সোহেল রানা ও হোসেন আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, রবিবার সকাল ১০টার সময় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাহাজ্জেল আলীর পুত্র ওয়াজির আলী গাড়ি কেনার উদ্দেশ্যে জীবননগর আসার সময় সন্তোষপুর নামক স্থানে আসলে দত্তনগর ফাঁড়ির এএসআই নুরুন্নবী এবং কনস্টেবল সোহেল রানা ও হোসেন আলী তাকে বাস থেকে নামিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। এরপর এক কোয়ার্টারে আটকে রেখে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার কাছে থাকা নগদ ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ওয়াজির আলী কান্নাকাটি করলে তাকে ১লাখ টাকা ফেরত দিয়ে ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে লোকজন নিয়ে অনেক তদবির করার পর ৮ লাখ টাকা খালিশপুর রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত দেয়। ঐদিন বিকাল ৪টার সময় ওয়াজির আলীসহ জীবননগর পৌরসভার কমিশনার ও স্বরূপপুর ইউনিয়নের ২ জন মেম্বারসহ ৮/১০ জন বাকি টাকার জন্য দেন-দরবার করে। এ সময় দত্তনগর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাহাফুজ টেলিফোনে জনপ্রতিনিধিদের জানায়, তিনি সাতক্ষীরায় আছেন ফিরে এসে বাকি টাকার ব্যবস্থা করবেন। রাত্রেই ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের নির্দেশে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আহম্মেদ কবির আজ সকালে প্রাথমিক তদন্ত করে এর সত্যতা পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি জানান। এদিকে এলকাবাসী দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্বরূপপুর ইউনিয়নের মেম্বর আব্দুল হামিদ ও রবিউল ইসলাম জানায়, সন্ধ্যার সময় ওয়াজির আলী ও জীবননগর থেকে আগত লোকজনের সাথে তারা ফাঁড়িতে যায় এবং বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার আলোচনা হয়। তারা জানায়, ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশ ১৬ লাখ টাকা নিয়েছিল এবং ৯ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে।

এদিকে রূপালী ব্যাংক খলিশপুর শাখার ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন ৮ লাখ টাকা টিটি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার ওসি আহম্মেদ কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান, আমি পুলিশ সুপারের নির্দেশে সোমবার সকালে দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। ওই ব্যবসায়ীর সাথে আমার কথা হয়েছে, সে ১৬ লাখ টাকার কথা স্বীকার করেছে এবং ৯ লাখ টাকা ফেরত পেয়েছে। বিষয়টি আমি লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বাকিটা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

এদিকে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন