শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৬:২০:২০ পিএম

থানায় জিডি করলেন বাপ্পারাজ

বিনোদন | বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৭ | ০৩:০৯:৩৩ পিএম

সম্প্রতি জনপ্রিয় চিত্রপরিচালক ছটকু আহমেদ জানান, ‘নায়করাজ রাজ্জাক-টালিগঞ্জ থেকে ঢালিউড’ শিরোনামে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ চিত্রনায়ক রাজ্জাকের স্মরণে জীবনী গ্রন্থ লিখতে শুরু করেছেন। কিন্তু না, প্রয়াত নায়করাজের স্ত্রী রাজলক্ষ্মীর অনুরোধে এ পরিচালক এই জীবনী লেখা স্থগিত করেছেন। তবে খুব শিগগিরই জীবনী গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে নায়করাজের পরিবার থেকে। আর সে সময় পরিবারের পাশাপাশি ছটুক আহমেদও থাকবেন।

এ তথ্য নায়করাজ রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট ৩০ নভেম্বর সকালে এ প্রতিবেদকে জানান। তিনি বলেন,‘জীবনী গ্রন্থটি লেখা স্থগিত করার জন্য ছটকু আহমেদকে ধন্যবাদ। কিছুদিন আগে আমরা ছটকু আহমেদকে বললাম, আম্মা চাচ্ছেন না আব্বার পুরো জীবন নিয়ে এখনই লেখালেখি হোক। খামাখা কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছিল। একেকজন একেক কথা বলছিলো। বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বললাম। এভাবে তো চলতে পারে না! যেহেতু বিষয়টা আমাদের পরিবার কেন্দ্রীক। এরপর তিনি গত শনিবার না হয় রবিবার আমাদের বাসায় এসেছেন।’

এদিকে নায়করাজ যখন বেঁচে ছিলেন সে সময় ছটকু আহমেদ নায়করাজকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। আর তাতে লেখা ছিল, তিনি নায়করাজের জীবন নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করতে চান। ছটকু আহমেদ অনুমতিও পেয়েছিলেন। কিন্তু যতদিন নায়করাজ বেঁচে ছিলেন ততদিনেও তিনি তার কাজ শেষ করতে পারেননি। একথাও জানান সম্রাট। তিনি বলেন, ‘এখন তো আব্বা নেই। সে বইতে কী থাকবে কী থাকবে না, সেটাও তো একটা বিষয়। এজন্য বললাম, আমরা একসাথে বসে কমপ্লিট একটা কিছু করি।’

তবে এরইমধ্যে জীবনীগ্রন্থের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন নায়করাজের পরিবারের সদস্যরা। সে কথা জানিয়ে সম্রাট বলেন,‘বাবার জীবনের বেশিরভাগ তথ্য তো আমাদের কাছেই রয়েছে। আর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে যা আমরা পরিবারের সদস্যরা ছাড়া কেউ জানেন না। আর যেগুলো বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ছড়িয়ে রয়েছে সেগুলোকে একত্রীভূত করে তারপর কাজ শুরু করব। আর এ ধরনের কাজ তো একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এজন্য একজন সম্পাদক নিয়োজিত করব। তিনি বিষয়টি দেখবেন। তার সাথে আরও বেশ কয়েকজন থাকবেন। এর পাশাপাশি আব্বাকে যারা খুব কাছ থেকে জানতেন তাদের কথাও থাকবে এতে।’

জানা গেছে, নায়করাজের পরিবারের অনুমতি ব্যতীত কেউ যেন নায়করাজ রাজ্জাকের জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করতে না পারে, সে জন্য সম্প্রতি গুলশান থানায় জিডি করেছেন রাজ্জাকের বড় ছেলে জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পারাজ।

২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার পরপর রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। রাজ্জাক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক 'বিদ্রোহী'তে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।

প্রায় ৫০ বছর ধরে চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করেছেন রাজ্জাক। তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় পাড়ি জমান। প্রথম দিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

সালাউদ্দিন প্রোডাকশনের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় নায়ক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘বেহুলা’। সেই থেকে শুরু। অভিনয়শিল্পী হিসেবে রাজ্জাকের ঝুলিতে রয়েছে ৩০০টির মতো চলচ্চিত্র। আর এর মধ্যে বেশ কয়েকটিই পেয়েছে ক্লাসিক সিনেমার খ্যাতি!

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন