মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৭:২৬:৪৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ-ভারত মিলনমেলা

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন | জেলার খবর | ঠাকুরগাঁও | শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:৩৪:৩৯ এএম

১ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার চাপাসার তাজিগাঁও সীমান্তের নীভৃত গ্রামে টেংরিয়া গোবিন্দপুর কুলিক নদীর পাড়ে পাথরকালি মেলায় বসেছিল বাংলাদেশ-ভারত মিলনমেলা।

বংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজার হাজার নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ভারতে বসবাসরত তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ ও মনের ভাব আদান-প্রদানের জন্য সকাল থেকে ভীড় করতে থাকে এই মেলায়।

বৃটিশ আমল থেকেই আজকের এই দিনে ‘‘পাথরকালির মেলা’’ নামে প্রতি বছর এখানে এক দিনের জন্য মেলা বসে আসছে। দেশ স্বাধীনের পর মেলাটি বাংলাদেশের অংশে পড়লেও মেলায় ভারতীয় সীমান্তে উন্মুক্ত করে দেয় ভারত। কোন প্রকার বাধা ছাড়াই ভারতীয়রাও আসতে পারে এই মেলায়।

হাজার হাজার ভারতীয় প্রতিবছরই মেলায় এসে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে। খবরটি লোক মুখে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।

এতে বাংলাদেশের বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ ভারতে বসবাসকারী তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সহজে দেখা করার জন্য এই দিনটি অপেক্ষা করতে থাকে।

জানা গেছে, কালী পূজার কয়েক দিন পর প্রতিবছর এই মেলা বসানো হয়। আত্মীয়-স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ ও মনেরভাব আদান-প্রদানের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই মেলায় আসে।

এবারও স্বজনদের সাথে দেখা করতে গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক স্থানীয় আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় কিংবা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে এসে জমা হয়।

এছাড়াও শুক্রবার ভোর থেকে রিক্সা, ভ্যান, মটরসাইকেল, টেম্পু, মাইক্রো, বাস, নছিমন-করিমন, বাইসাইকেল, অটোগাড়ি যোগেও হাজার হাজার মানুষে এই মেলায় আসে।

আজ ১০টায় ভারতের মাকড়হাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের ৩৪৬ ও ৬৮ নং টিলারের মেইন গেট না খুললেও তার কাঁটাতারের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে শুরু হয় দুই দেশের মানুষের দেখা সাক্ষাৎ, ভাব বিনিময় করে।

প্রায় কয়েক ঘণ্টার অধিক সময় ধরে চলে স্বজনদের সাথে মতবিনিময়। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে হাত ধরাধরি করে খাবার বিনিময় করে সময় কাটে তাদের। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের পেয়ে অনেকেই কান্নাই ভেঙে পড়েন।

মেলাস্থলে কথা হয় জেলা সদর থেকে আসা আরিফ, সঞ্জয়, দিনাজপুরের রাশু, নীলফামারীর দানেশ, সুদীপ, পঞ্চগড়ের হানিফের সাথে কথা হয়। তারা জানান, ভারতে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করার জন্যই তারা মেলায় আসেন। এই দিনটির জন্য প্রতিবছর তারা অপেক্ষা করেন বলেও জানান।

এই বিষয়ই হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্য রুহুল কুদ্দুছ বলেন, মেলায় আইন-শৃঙ্খলার জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় মেলাটির সুনামের সাথে প্রতিবছরই বসে থাকে তাই অন্যান্য বারের মতো এবারেও কোনরূপ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই মেলা শেষ করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন