বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০১:০২:৫০ পিএম

আনিসুল হককে শ্রদ্ধা জানাতে বনানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় | শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২:৪৭:৩৭ পিএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হককে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে তার বনানীর বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বনানীর ২৭ নম্বরের বাসায় এসে পৌঁছায়।

এর আগে দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হকের ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল শফিউল হক উপস্থিত ছিলেন। আনিসুল হকের লাশের সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী রুবানা হক ও ছেলে নাভিদুল হক।

এদিকে বানানীর বাসার সামনে নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। আশপাশের সব রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

বিমানবন্দর থেকে আনিসুল হকের মরদেহ তাঁর বনানীর ২৭ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। আগে থেকেই সেখানে হাজির ছিলেন প্রয়াত মেয়রের আত্মীয়স্বজন, বিপুল শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ পর্ব সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বাড়ির বাইরে প্রচুর সাধারণ মানুষ জড়ো হয়েছেন তাঁকে শেষবারের মতো দেখার জন্য। কিন্তু বাসায় ভেতরে শুধু নির্ধারিত মানুষদেরই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

শেষবারের মতো আনিসুল হকের লাশ নিজের বাসভবনে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়।

বাসা থেকেই তাঁর লাশ নিয়ে আসা হবে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সেখানে থাকবে লাশ। সেখানেই আসরের নামাজের পরই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সন্ধ্যার আগেই বনানী কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

সেখানে আনিসুল হকের মায়ের কবর আছে। সেখানে তাঁর পুত্র সন্তানের কবরও আছে। পুত্র সন্তানের কবরে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা সেন্ট্রাল লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক মসজিদে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

স্ত্রীর সঙ্গেই গত ২৯ জুলাই পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।

এরপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি ঘটলে তাকে গত ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। গত সোমবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থেকে পুনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন