মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ ০৭:১৫:১৮ পিএম

নোয়াখালীতে এক মাসে পরকিয়ার টানে ঘর ছেড়েছে ৩ গৃহবধূ

জেলার খবর | নোয়াখালী | শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৬:২৫:৪০ পিএম

নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পরকিয়ার টানে ঘর ছেড়েছে ৩ গৃহবধূ। এছাড়া প্রেমিকের হাত ধরে আরো পালিয়ে গেছে ২ শিক্ষার্থী।

এর মধ্য সেনবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দাগনভুঞা থেকে ২ গৃহবধূকে উদ্ধার করলেও অজ্ঞাতস্থানে রয়েছে আরেক গৃহবধূ ও ২ শিক্ষার্থী। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর উপজেলা জামালপুর গ্রাম থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রেমিক দুলালের হাত ধরে দুটি সন্তান রেখে পালিয়েছে গৃহবধূ রেহান আক্তার রুমী (৩৫)।
দীর্ঘ ১৯দিন পালিয়ে ঘর সংসার করার পর রুমীকে ২৭ নভেম্বর রাতে দাগুনভুঞার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। রুমী ১১ বছরের সংসার ফেলে সন্তানকে স্কুলে দিয়ে ১১ নভেম্বর পালিয়ে যায়। রুমির প্রেমিক দুলাল পাইপ ফিল্টার মিস্ত্রী ও সেনবাগ পৌরসভার বিন্নাগুনি গ্রামের জাকেরের পুত্র। আর রুমী কাদরা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের হাই স্কুল শিক্ষক মিজানের স্ত্রী ও নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিনের মেয়ে।

অপরদিকে গত ৩ নভেম্বর উপজেলার ৭নং ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজারামপুর গ্রাম থেকে পালিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৫)। শারমিন দক্ষিণ রাজারামপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের কন্যা ও বেগমগঞ্জের লতিফপুর গ্রামের প্রবাসী খোরশেদ আলমের স্ত্রী। গত ৩ নভেম্বর শারমিন পিতার বাড়ি থেকে মার্কেটিং করার কথা বলে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় । গত ২৪ নভেম্বর ২১ দিন পর দাগনভুঞার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে সেনবাগ পৌরসভার দক্ষিণ অর্জুনতলা পিতার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে পালিয়েছে গৃহবধূ বিবি কুলসুম (২৪)। কুলসুম দ. অর্জুনতলা নুরনবীর মেয়ে ও হোমনাবাদ শ্রীপুর গ্রামের মহিন উদ্দিনের স্ত্রী। ৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর বিকেলে পিতার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে প্রেমিক রনির হাত ধরে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ রিপোর্ট লেখার আগ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। মেয়েটি ঢাকা থাকার সুবাদে রনি নামের এক টেইলার্সের দোকানে জামা সেলাই করতো। সেই থেকে টেইলার্স এর রনির সাথে মোবাইলে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিক রনির বাড়ি চাটখিল বদল কোট গ্রামের মধ্যপাড়ায়।

এ ছাড়া নবীপুর ইউনিয়নের কলেজের শিক্ষার্থী সেলিনা ও নজরুল প্রেমের টানে পালিয়েছে গত ২৪ নভেম্বর। জে.এস.সি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হল থেকে অজ্ঞাত প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায় ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এদিকে সেনবাগ রাস্তার মাথায় এলাকার মহিদিপুর গ্রামের হোসেন আলী সেরাং বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা এসলামের ছেলে দিদারুল ইসলাম রিংকুর নারী কেলেংকারীতে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। রিংকু নানা প্রলোভনে এলাকার অনেক গরীব গৃহবধূর সর্বনাশ করে আসছে। গত ২৮ নভেম্বর সন্ধায় একই গ্রামের খাজু মিয়ার বাড়ির এক গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে রিংকু ছাড়া পাওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

গৃহবধূ ও শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় তাদের আত্মীয় স্বজন সেনবাগ থানায় সাধারণ ডায়রী করার পর অভিযানে নামে পুলিশ। আর এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সেনবাগ থানার ওসি হারুন উর রশিদ জানান, নিখোঁজ গৃহবধূদের মধ্যে ২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর এক গৃহবধূ ও শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন