শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৮:১২:৪৪ পিএম

আনিসুল হকের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে ? কয়েকটি তেঁতো সত্য কথা!!

Shaifur Rahman Sagar | খোলা কলাম | রবিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৬:২১:২৩ এএম

আনিসুল হকের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে ? কয়েকটি তেঁতো সত্য কথা!!

আমরা সবাই মৃত্যু বরণ করবো, অবধারিত সত্য. এই মৃত্যু কেউ-ই অস্বাভাবিক ভাবে চায়না. প্রতিটা মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু যেমন স্বয়ং নিজের দায়িত্ব, পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের স্বাভাবিক ম্রিত্যু নিশ্চিত করার অনেক বেশি দায়িত্ব রাষ্ট্রেরও .

আনিসুল হকের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক গুঞ্জনের আবির্ভাব হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা.

তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা বলেছেন রোগটির নাম "সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালীর প্রদাহ)" মেডিকেলের ভাষাকে যদি কথিত বাংলায় ডাবিং করা হয়, তাহলে যা দাঁড়ায় তা নিতান্তই বেদনাদায়ক.

সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস রোগটির আরেক নাম সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ভাসকুলাইটিস। এটি খুবই জটিল এবং বিরল রোগ। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে সাধারণত এ ধরনের সমস্যা দেখা যায় না। এতে মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটতে পারে। অনেক সময়ই প্রাথমিকভাবে এ ভয়াবহ রোগটির তেমন কোনো উপসর্গ চোখে পড়ে না।

মিস্টার মেয়রের মস্তিষ্কের আঘাত জনিত কারণ, যা উৎপত্তি হয় প্রচন্ড মানসিক চাপ থেকে. 
হাসপাতালে যাওয়ার ২ মাস পূর্ব থেকেই তিনি মানসিক চাপে ভুগছিলেন, ডাক্তারদের ভাষ্য মোতাবেক।

কি সে চাপ, কিভাবে আসলো সে চাপ?

মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আমি অনেক আগ্রহের সাথে পড়াশুনা করেছি এবং এখনো করি.

আমরা আনিসুল হকের জীবনী এবং বর্তমান যদি দেখি, তাহলে তাঁর জীবনে উন্নতির গল্পই বেশি দেখা যায়. 
খুব ব্যক্তিগত যতটুকু দুঃখ দেখতে পাই, তা প্রতিটি মানুষ-ই উপভোগ করে বিলাসিতার সাথে.

এছাড়া হক সাহেবের ব্যক্তিগত জীবনের উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত তেমন কোনো সমস্যা আমরা দেখতে পাইনা. তাঁর প্রতি ভালো লাগার অনেকগুলো কারনের মধ্যে অন্যতম ছিলো, সুদর্শন, সু-বক্তা, স্বপ্নবাজ, সদা হাসির মানুষ ছিলেন তিনি.

যা তাঁকে রাজনীতির বাইরেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখেছিলো.

এই চরিত্রের মানুষকে মানসিক যন্ত্রণাদায়ক অসুখে মরতে হয়েছে!!!
একদম অবিশ্বাস্য ও দুঃখজনক !!!
তিনি জীবনের সফলতার সবশেষে ঢাকার মেয়র হয়েছিলেন, বিশাল একটি স্বপ্ন দায়িত্বে ছিলেন.

অরাজনৈতিক লোক হয়েও হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসেই মেয়র হয়ে গেলেন, তাও ঢাকার মতো মেগা সিটির. 
নিজ দলের অনেকের মনে আঘাত আনার মতো কর্ম অনায়াসে সাধন করেছেন তিনি.
প্রশ্ন জাগে , সেদিন সরকারের পক্ষ থেকে সবাই কি মন থেকে মেনে নিয়েছিলেন তাঁকে ?

তিনি মেয়র হওয়ার পর পুরো ঢাকাকে সঠিকভাবে পরিচালনার বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে নিজেই রাস্তায় নেমেছিলেন আমরা দেখেছি.

নিজ দল ও বড়ো বড়ো ব্যবসায়ী রাঘব বোয়ালদের ধরাশায়ী করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন. তিনি সেইসব ব্যবসায়ীদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার একমাত্র বাঁধা হয়ে উঠেছিলেন.

সরকারের বড়ো নেতাদের ছাড় দেননি অনেক উন্নয়নমূলক অভিযানে. অনেকটা একাই লড়েছেন এদের বিরুদ্ধে.
অনেকবার অনেক বাঁধার সম্মুখে তিনি পিছু হটেননি, একটা সুরাহা করেই তিনি ফিরে এসেছেন.

তাঁর ক্ষমতার এলাকাটি দেশের সবচেয়ে বিত্তবান ও ধনীদের এলাকা. যেখানে দেশের সব খারাপ মানুষ ও ভালো মানুষদের বসবাস.

অরাজনৈতিক লোক হয়ে ঐসব বিত্তবানদের চলমান অসম ও অনৈতিক কর্মকান্ডকে বন্ধ করে একটি সুন্দর ঢাকা উপহার দেয়াটা নিঃসন্দেহে জলে বাস করে কুমিরের সাথে যুদ্ধ করে চলার মত।

আরো অনেক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে সাধারণ মানুষ.

তিনি মাঝে মাঝেই তাঁর অসহায়ত্বের কথা-ও বলার চেষ্টা করেছেন.
বিমূর্ষ, অসহায়ের মতো মাথা নিচু করে বলার চেষ্টা করেছিলেন অসহায়ত্বের কথা.
কারণ নির্বাচনপূর্বে ওয়াদা বদ্ধ ছিলেন ঢাকাবাসীর কাছে, একটা সুন্দর আধুনিক ঢাকা উপহার দেয়ার.

কি ছিলো সেসব অপারগতা, কি কারণে তিনি শেষ সময়ে নিজেকে মানসিক চাপের কাছে নতি শিকার করতে হয়েছিল?

তিনি মুখ খুলে না বললেও আমরা সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই বুঝতে পারি.

তিনি ছিলেন বীর, কোনো ক্ষমতার কাছেই মাথা নত করেননি. নিজের কাছেই হেরে গিয়েছেন তবুও অন্যকারো কাছে হারেননি.

মৃত্যুর কারণ খুঁজতে গেলে হয়তো " কেঁচোর জন্য মাটি খুঁড়লে সাপ বের হবে"
এমন তরতাজা শক্ত সার্থক লোকটি এতো সহজেই জীবনের যুদ্ধে হারতে পারেনা.

গুলি করে ও নিজ হাতে মারলে যেমন খুন করা করা বলে, একই ভাবে কাউকে মানসিক চাপ প্রয়োগে মৃত্যু বরণে সাহায্য করাও সমান অপরাধ.

মাননীয় মেয়রের মৃত্যুর কারণটি এবং কারণের পেছনের কারণটি গভীর পর্যবেক্ষণ করে তদন্তপূর্বক জাতিরকাছে প্রকাশ করার আবেদন জানাচ্ছি.

যদি আসল কারণ খুঁজে বের করে দোষীদের আইনের আওতায় না আনা হয় , তাহলে এদেশে আর কোনো সাহসী মানুষ দেশ গড়ার প্রত্যেয়ে জীবন বাজি রাখার স্বপ্ন দেখবেনা . সোনার বাংলা শুধু স্বপ্নেই রয়ে যাবে .

সরকার তার অবস্থান ও স্পষ্টতা প্রমান করতে হলে অবস্যই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শীঘ্রই উন্মোচিত করবে আনিসুল হকের মৃত্যুর পেছনের আসল রহস্য.

সাইফুর সাগর 
লেখক ও সাংবাদিক





খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন