শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৮:১২:২৯ পিএম

দ. কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া

আন্তর্জাতিক | সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩:৫৮:১৬ পিএম

সর্বোচ্চ পাল্লা ও উচ্চতায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার এক সপ্তাহ পর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করল সোমবার।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও সক্ষমতা ঝালিয়ে নিতে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ভিজিল্যান্ট অ্যাস’ নামে এই মহড়া পরিচালিত হচ্ছে।

কোরীয় উপদ্বীপে বাৎসরিক মহড়ায় মোতায়েনের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু সরঞ্জামাদি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেভেন্থ এয়ার ফোর্স। এর মধ্যে রয়েছে পরমাণু বোমাবাহী ছয়টি এফ-২২ ও ১৮টি এফ-৩৫ স্টিল্থ যুদ্ধবিমান। প্রায় ১২ হাজার মার্কিন সেনা এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের নিজেদের ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ২৩০টি বিমান আকাশে উড়বে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বি-১বি যুদ্ধবিমানও এই মহড়ায় অংশ নেবে। তবে কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

সেভেন্থ এয়ার ফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতি বছরের শেষ দিকে পরিচালিত এই মহড়া এবার কোনো ঘটনা বা কারো উসকানির জবাবে করা হচ্ছে না। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণামাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ‘এই মহড়া কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু যুদ্ধের কিনারে ঠেলে দেবে।’ প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে পিয়ংইয়ং সাধারণতই এ ধরনের কথা বলে থাকে। কারণ, তারা এ-ও দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ায় আগ্রাসন চালাতে মহড়াটি করা হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়া নির্ভরযোগ্য দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটায় এবং এর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চবাচ্য ও দেশটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকির কারণে কোরীয় উপদ্বীপে টানটান উত্তেজনা এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

মহড়া শুরুর আগের দিন রোববার কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির এক খবরে বলা হয়, মহড়ার জবাব দিতে ‘গুরুত্বসহকারে ভাবছে’ পিয়ংইয়ং এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে এই উসকানির চরম মূল্য দিতে হবে। যদিও উত্তর কোরিয়ার হুমকি-ধমকি দক্ষিণ কোরিয়া তেমন পাত্তা দেয় না, তবুও তাদের তৃতীয় আন্তমহাদেশীয় বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষার পর কিছু মার্কিন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সময় রোববার মার্কিন সিনেটের সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবারগুলোর ফিরে আসা উচিত, কারণ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘনিয়ে আসছে। গ্রাহাম এমন সতর্কতা উচ্চারণ করলেও যুক্তরাষ্ট্র সরকার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সেনাপরিবারগুলোকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়নি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের কূটনৈতিক মহলেও এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেখা যায়নি।

তবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিবারগুলো ফিরে যাওয়া শুরু করলে তা প্রতিবেশী অন্যান্য দেশ ও দক্ষিণ কোরীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন