শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৮:১৩:৪৭ পিএম

ছাত্রদলের প্রবাসী নেতার নির্দেশে সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা

নগর জীবন | বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০২:২৮:১৮ পিএম

ছাত্রদলের প্রবাসী এক নেতার নির্দেশে বনানীর আদম ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যা করেছে হেলাল। গ্রেপ্তার হওয়া হেলালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানান কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

বুধবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টিরোরিজমে এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রইম ও গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের যৌথ অভিযানে রাজধানীর বনানীতে গুলি করে আদম ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও বাড্ডায় জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত হেলালকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহজাহান সাজুসহ কাউন্টার টিরোরিজমে এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রইম ও গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তার কাছ থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি সহ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হেলাল ‘মএস মুন্সি ওভারসিজ নামে রিক্রুটিং এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিক হোসেন মুন্সির (৫০) হত্যার পরিকল্পনাকারীর প্রধান হিসেবে ছিলেন, বলে প্রাথমিকভাবে জিঙ্গাসাবাদে হেলাল সেটি জানিয়েছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, হেলাল আগেই থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। ২০১৩-১৫ সালে সে জ্বালাও পোড়ার সাথে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলো বলে সে শিকার করেছেন।

তিনি বলেন, হেলাল আমাদের বলেছে সিদ্দিক মুন্সিকে তার এক ইউরোপ প্রবাসী বন্ধুর কথায় তাকে হত্যার দায়িত্ব নেয়।

তিনি বলেন, ইউরোপ প্রবাসী’বন্ধুর ইশারায় রাজধানীর বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক মুন্সিকে হত্যা করা হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হেলাল উদ্দিন নগরীর একজন পেশাদার খুনি।

মনিরুল ইসলাম জানান, সিদ্দিক মুন্সি হত্যায় হেলালের নেতৃত্বে ৬ জন অংশ নেয়। যার মধ্যে ২ জন ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিল। এর মধ্যে ২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। পিচ্ছি আল-আলামিন ও সাদ্দাম নামে আরো দুইজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি দুইজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, হেলাল অপারেশনাল কমান্ডার হওয়ায় হত্যার সময় সে সহ দুইজন ভেতরে ঢুকেনি। বাকি ৪ জন সরাসরি হত্যায় অংশ নেয়। এ হত্যাকাণ্ডে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র দল নেতা হিসেবে হেলালের কাছে জমা থাকে। তার মধ্যে ৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১টি ৯ এমএম পিস্তল ও ৪টি ৭.৬৫ মডেলের। এ সময় ৯ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, তবে পুলিশ মনে করছে, হেলালের সাথে সিদ্দিক মুন্সির কোনো ঝামেলা ছিল না। খুনিরা মূলত ভারাটে। তাদের কাছে খুন হলো চা-পানি পান করার মতো। এ হত্যায় আর্থিক চুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল জানান, ইউরোপ প্রবাসী সন্ত্রাসীও এক সময় ছাত্রদলের নেতা ছিল। সে তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে হেলালকে এই দায়িত্ব দেয়।

প্রসঙ্গত, প্রবাসী সেই সন্ত্রাসী রাজধানীর বাড্ডায় ফোর মার্ডারসহ আরো হত্যার সাথে জড়িত। এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সিদ্দিক মুন্সি হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হেলালকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে পুলিশ ও হেলালের মধ্যে গোলাগুলির সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৪ নভেম্বর রাতে ‘এমএস মুন্সি ওভারসিজ’নামে রিক্রুটিং এজেন্সির কর্ণধার সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে (৫০) গুলি করে হত্যা করে চার দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের ৩ কর্মকর্তা মির্জা পারভেজ (৩০), মোখলেসুর রহমান (৩৫) ও মোস্তাফিজুর রহমান (৩৯) গুলিবিদ্ধ হন।

এ ঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বনানী থানায় নিহত ব্যবসায়ী সিদ্দিকের স্ত্রী জোৎস্না বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সিসিটিভির ফুটেজে চারজন সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে নগরবাসী তথা জনসাধারণের সহায়তা চায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

এরপর গত ২৩ নভেম্বর বনানী থানা পুলিশের কাছ থেকে সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যা মামলার তদন্ত ভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন