বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:২১:১৮ এএম

জিয়া পরিবারের দুর্নীতি ও সরকারের ইস্যু দৈন্যতা!

খোলা কলাম | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:১৮:২১ এএম

সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক মহল এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এই ভিডিওটির প্রচারিত তথ্যের উপর আস্থা রেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঙ্কার দিয়েছেন.

গত পরশুদিন কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি প্রশ্ন উত্তর অনুষ্ঠানে উপরোক্ত বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়.

উপলক্ষ বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল সাবেক বিরোধী দল প্রধানের পরিবার ও তাদের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উত্তর সম্মেলন.

দৃশ্যত মনে হয়েছে যেনো, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং তাঁদের দুর্নীতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন.

সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ অপেশাদারিত্বের বৈশিষ্ট পরিলক্ষিত হয়েছে বৈ কি ??

যে খবরটি নিয়ে আওয়ামী পন্থী রাজনীতিবিদ সহো প্রধানমন্ত্রীর মাঝে উৎকণ্ঠা ও উল্লাস পরিলক্ষিত হয়েছে তাতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইস্যু দেউলিয়াপনায় ভুগছে বলেই প্রমাণিত হয়.

কারণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য একটি ভিডিও নিয়ে সরকারি দল যেভাবে জাতীয়তাবাদী দলের পেছনে লেগেছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনের ভিতর কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়.

যেমন: বিগত বিভিন্ন সময়ে সরকার কতৃক আনীত যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিচার পরবর্তীতে রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের মাত্রা অনেকাংশে বেড়ে গেছে.

সেই অভিযোগ গুলো কি আদৌ সত্য ছিলো ?
বিচার কার্য্য কি স্পষ্ট ও নীতির ভিত্তিতে ছিলো ?
রায়গুলো কি সরকারি ইচ্ছার উপরেই নির্ভরশীল ছিলো?

ঐতিহাসিকভাবে একটি প্রবাদ আছে," মিথ্যাকে বার বার সত্য বললে, তা এক সময় সত্য বলেই মানুষ ধরে নেয় "

এমন পন্থা অবলম্বন করছে কিনা সরকারি দল, তা নিয়ে সন্দেহের গভীরতা বেড়ে চলেছে.

সাম্প্রতিক দুর্নীতির ভিডিওটি একটি সম্পূর্ণ অপেশাদার ও অপরিপক্ক হাতে বানানো তা স্পষ্ট, তার জের ধরে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যেভাবে চরম উত্তেজনা দেখাচ্ছে, তাতে সম্পূর্ণ রূপে বুঝা যায় যে, ইচ্ছাকৃত ভাবে সরকার একটা মিথ্যা ভিডিওকে সত্য বলে চালিয়ে দেবার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে.

বিধি বাম, ভিডিওটির তথ্যের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি.
আমি কানাডা মন্ট্রিয়লে কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির সাংবাদিক বন্ধুর সাথে কথা বলেছি, গুগলে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি, কিন্তু কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি . সাংবাদিক বন্ধুর ভাষ্যমতে এমন নামের লোগো সজ্জিত কোনো টেলিভিশন চ্যানেল পুরো কানাডাতেও নেই.

তাহলে কিভাবে আসলো এই ভিডিও ?

আমার বন্ধু ভিডিও চিত্র স্পেশালিস্ট সুইডেনে থাকে, তাঁর কাছে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ বানোয়াট.

প্রাইমারি লেভেলে পড়ুয়া স্টুডেন্টরাও আরো ভালো ভিডিও তৈরী করতে পারে.

আরো বেশি আশ্চার্যান্বিত বিষয় হলো, ভিডিওটি তৈরী কাল এবং স্থান বাংলাদেশের কুমিল্লাতে.

ভিডিওটি ইউলিড সফটওয়্যার দিয়ে তৈরিকৃত, যা অনায়াসেই পাওয়া যায় অনলাইনে.

আরো হাস্যকর বিষয় হলো,ভিডিওটির চিত্রগহন এবং উপস্থাপকের উপস্থাপকের মৌখিক লিপসিং শূন্য শতাংশও মিল নেই.

আরো মজাদার বিষয় হলো, ভিডিওটির নেপথ্যে যে কণ্ঠটি দেয়া হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ রোবোটিক ভয়েস.

যে কেউ গুগল টঅকারে গিয়ে ইংলিশে যা কিছুই লিখবেন, তাই নারী কণ্ঠে রোবোটিক কণ্ঠে বলে দিবে.

এই ভিডিওতে তাই করা হয়েছে. পুরো খবরটি গুগোলে লিখে এবং গুগোল রোবোটিক টকিং সিস্টেমে নেপথ্য কণ্ঠ প্রদান করা হয়েছে.

আমার মতামত:

যে লোকটি ভিডিওটি বানিয়েছে, সে নিজেও হয়তো ভাবেনি ভিডিওটি ভাইরাল হবে এবং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এই ভিডিওর উপর বিশ্বাস আনবে.

দেখার বিষয় : যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং আইটি পার্ক দিয়ে সারা দেশ ভরে ফেলছে, সেই সরকারে প্রধানের কাছে এমন অবিশ্বাস্য ভিত্তিহীন ভিডিওটি উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করার প্রয়াস চলছে কিনা নিজ দলের অন্দরে, তা যত্ন সহকারে তদন্ত করা উচিত.

ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ বাঙালিকে আর বোকা বানানোর সুযোগ নেই, কারণ বাঙালিরা এখন সবাই স্মার্ট, এবং তাদের ফোনগুলোও অনেক স্মার্ট.
সবাই প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে.

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশে যেসব তেলবাজ সাংবাদিকরা ভুল তথ্য প্রদান করে দ্বিধা সৃষ্টি করছেন,তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা দরকার.

সাইফুর সাগর
সাংবাদিক, কলামিস্ট

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন