শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:২৪:৩০ এএম

আ’লীগ বিএনপিতে কোন্দল, জামায়াতের বাজিমাত!

রিপন আলি রকি | জেলার খবর | রাজশাহী | মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১২:৪৮:৩৪ পিএম

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই এমপি প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ভোরে যাচ্ছে শহর থেকে নগর। এই নিয়ে সংসদীয় আসন ৪৪ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল) নির্বাচনে সম্ভব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী নিয়ে ঝামেলার মাঝে চমক দেখাতে পারে জামায়াত ইসলামী। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী দেখা গেলেও জামায়াত একক প্রার্থী মনোনীত করেছেন।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে হলেন আওয়ামী লীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস তিনি দশম সংসদ অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৯৩ হাজার ৫০৮ পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী খুরশেদ আলম বাচ্চু আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছিলেন ২৭ হাজার ৮৯৩ ভোট। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি জিয়াউর রহমান, তিনি ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের এলাকায় নিজের পক্ষে দলে একটি বলয় তৈরি করেছেন।

এবার তিনি নিজে প্রার্থী হওয়ার জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন। নাচোলের বাইরে গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায়ও গণসংযোগ করছেন। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার গত জাতীয় নির্বাচনের মত এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশায় তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিন উপজেলায় মানুষের সঙ্গে গণসংগোগ করছেন এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারপত্র বিতরণ করেছেন। মহান্ত মহারাজ ক্ষিতিস চন্দ্র আচারীও আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ নির্বাচন করতে চান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তিনি জানান দিয়েছেন শুভেচ্ছা সংবলিত বিলবোর্ড দিয়ে। ৩ উপজেলার ইউনিয়ন এলাকায়ও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শুভেচ্ছা বিলবোর্ড।

বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, তিনি ২০০৮ নির্বাচনে ধানের র্শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন।

গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাইরুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়টি জানান দিয়েছেন তিন উপজেলায়ই ব্যাপক পরিমাণ বিলবোর্ড টাঙিয়ে। পাশাপাশি তিনি বেশ গুরুত্ব সহকারে শুরু করেছেন গণসংযোগ।

জামায়াত ইসলামী- অন্য দলগুলোর একাধিক প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াত ইসলামী একক প্রার্থী মনোনীত করে, জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা জামায়াতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইয়াহইয়া খালেদ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে-২ আসনে ভোটের হিসাবে জামায়াত অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের রয়েছে বিপুল ভোট ব্যাংক। ৮৬ সালের নির্বাচনে অধ্যাপক ইয়াহইয়া খালেদের বড় ভাই জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা নাচোলের প্রয়াত মীম ওবায়দুল্লাহ সংসদ সদস্য হন।

সকল দলের প্রার্থীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল) আসনের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামায়াত যদি এ আসনে একক নির্বাচন করে তাহলে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের ত্রিমুখী লড়াই হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ও বিএনপি’র গ্রুপিং এর কারণে ফাঁকা মাঠে জামায়াত গোল দিতে পারবে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী। চলতি বছরে মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার ভারত থেকে আসা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় অধ্যাপক ইয়াহিয়া খালেদ নতুন মুখ হিসেবে ২ উপজেলার বন্যার্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ঘর-বাড়ি পুর্ণনির্মাণের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করছেন এতে করে বর্তমানে তিনিও বেশ আলোচনায় আছেন।

-বিডি২৪লাইভ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন