সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৮ ০৬:০০:১৯ পিএম

পেটে গজ রেখে অপারেশন শেষ : রোগীকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

আইন আদালত | বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩:৪৬:৪৬ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফলের কথিত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে নয় লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সন্তান প্রসবের সময় রোগীর পেটে গজ রেখেই অপারেশন শেষ করায় বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত আজকে আবেদনের শুনানি শেষে কথিত চিকিৎসককে পাঁচ লাখ টাকা এবং নিরাময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে চার লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে রোগীকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর ২৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগ গত ১১ ডিসেম্বর অপারেশনকারী কথিত চিকিৎসক রাজন দাসকে (অর্জুন চক্রবর্তী) আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভুয়া ডাক্তার, পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ৬ নভেম্বর ওই ডাক্তারের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন হাইকোর্ট। এর আগে আদালতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে দাখিল করা প্রতিবেদনে ডাক্তার নামধারী রাজন দাসের সার্টিফিকেট ভুয়া প্রমাণিত হয়।

গত ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে বলা হয়।

মাকসুদার মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদাকে বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার করে মাকসুদার একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। তখন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল মেডিকেলের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আলট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়ে না। এরপর পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসককে দেখানোর পর তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদার অস্ত্রোপচার হয়। তখন তাঁর পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন