মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ ০৭:২২:৪০ পিএম

কুমিল্লার নীল পদ্মে ৮ নারী পতিতা, নরগুলো কোথায়?

সাইফুর সাগর | খোলা কলাম | শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:৫২:৩০ এএম

৮ জন নারী পাশাপাশি দাঁড়ানো, তাঁদের ২ পাশে মহাবীর পুলিশ সদস্য গণ মুচকি হাসিতে দেখা যাচ্ছে পত্রিকাতে।

পুলিশের দাঁড়ানো এবং ছবি তোলার ভঙ্গিমাতে যা মনে হচ্ছে, রণাঙ্গণে সম্মুখ যুদ্ধে আন্তর্জাতিক শত্রুকে হারিয়ে আত্ম তৃপ্তিতে ভরাট হৃদয় মাখা হাসি.

বস্তুত: কুমিল্লা "নীল পদ্ম" নামক আবাসিক হোটেল থেকে, অসহায় কয়েকজন নারীকে সম্ভ্রম বিক্রির অপরাধে আটক করা হয়েছে।

যথারীতি, হোটেল কতৃপক্ষ, দালাল, খদ্দের কারোর কোনো ছবি বা আটকের নিশানা নেই।

স্থানীয় গণমাধ্যমে শুধুমাত্র এই অবলা অসহায়, জীবনের সবচে মূল্যবান সম্পদ বিক্রিকারিনী তথাকথিত " পতিতা" দের ছবি সংবলিত খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

বিস্তারিততে সকল আটককৃত নারীদের জন্মস্থান, নাম ঠিকানা ও বংশ পরিচয় দেয়া হয়েছে।

আমার প্রশ্ন: এই অভিযানে ওই নারীরা কি পেলো, কি হারালো ? সমাজ ও আমরা কি পেলাম ?

সবার চোখে এই নারীগুলোকে সর্বচ্চো অপরাধী হয়ে সমাজ বিচ্চ্যুত হয়ে গেলো নিঃসন্দেহে।

এখন কি হবে তাদের ??

পরিবার থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হতে হবে. সমাজের মাতুব্বরদের কাছে নত শিরে ইচ্ছেমতো ব্যবহারের পাত্রতে পরিণত হবে। সর্বোপরি তাদের জীবন আর কখনোই স্বাভাবিক স্বাধীন রইলোনা।

ওরা কেনো ওখানে ? কে এনেছে ওদের ? কারা ভোগ করেছে তাদের ? তাদের দেহের বিনিময়ে অর্থ আয় করেছে কারা ?

এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের সমাজের কাছে কি আছে ?
পুলিশের কাছে ৯৯৯ এ ফোন করলে যদি বলা হয়, এমন কয়েকজন নারীদের কারা এনেছে তাদের ধরুন, পুলিশ কি ধরবে ??

পুলিশকে যদি বলা হয়, যে হোটেলে এমন কার্যকলাপ হয়েছে এবং হচ্ছে, সেগুলিকে কি বন্ধ করবেন ?

পুলিশকি আদৌ বন্ধ করবে ?

এসব প্রশ্নের উত্তর যদি সন্দেহযুক্ত হয়, এই অসহায় নারীদের আটক করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত ?

প্রশ্ন: মদের দোকানে গিয়ে শুধু " মদ" কে গ্রেফতার করলেই কি সমাধান হয়ে যাবে ?

ইয়াবা সেবন করে পুরো সমাজ ধ্বংসের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পাড়ি দিয়ে গেছে, সেখানে পুলিশের কতটুকু সফলতা আছে ?
সমাজের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইয়াবা বিদ্যমান।

উপরোক্ত প্রশ্ন এবং হতাশা শুধু আমার নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মাঝেই লালন করে।

মধ্যপ্রাচ্চ্যে চাকুরীর নামে হাজারো নারীদের উপর চলছে
অত্যাচার, কি করতে পারছি আমরা ?

তাদের পেশী শক্তি নেই, তারা ওয়াল টপকে পালাতে পারেনা, তারা উপঢৌকন দিতে পারেনা, তাদের টেলিফোনের জোর নেই, তাই তাদেরকে ধরতে মজা পান আমাদের পুলিশ বাহিনী।

ওরা দুর্বল বলেই ওদের উপর এমন অভিযান?

আমাদের পুলিশ বাহিনী অনেক শক্তিশালী, শুধুমাত্র সঠিক দৃঢ়তার অভাব আছে বলেই সমাজে এমন সব কান্ড ঘটেই চলেছে।

গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি অনুরোধ রইলো, এই ধরণের ছবি প্রকাশ না করে যারা এই নারীদের ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করে সমাজের ভদ্র শ্রেণীর মহাজন সেজে বসে আছে তাদের ছবি প্রকাশ করুন, তাদের সকল তথ্য ফাঁস করুন.

ওদের কি অপরাধ ? ওই নারীদের অভয় স্থান না প্রদান করলে হয়তো ওরা কখনোই ওখানে আসতোনা।

এমন সমাজ ব্যবস্থা ও ধারণার পরিবর্তন হওয়া অত্যাবশ্যক। সমাজের সর্বস্তরের নারীদের প্রতি বাড়ুক প্রতিটি পুরুষের সন্মান, পরিবর্তন হোক আমাদের তথাকথিত দৃষ্টিভঙ্গি।

ভালো থাকুক সকলে।

সাইফুর সাগর
লেখক ও সাংবাদিক।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন