শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০২:২৫:০৫ এএম

একাত্তরে পাগলের অভিনয় করে বেঁচে গিয়েছিলেন মহিউদ্দিন

হুমায়ুন মাসুদ | জেলার খবর | চট্টগ্রাম | শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০১:০১:১৫ পিএম

একাত্তরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’তে একথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইয়ে আরও উল্লেখ আছে, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআইয়ের (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা) চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমির সদর দফতরের কাছে আটক করা হয় তাকে। এরপর চার মাস তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। পরে 'পাগলের' অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পান। ছাড়া পেয়েই পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে অংশ নেন।

ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি ও বিপ্লবে জড়িয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের এই নেতা। ১৯৬৮ ও ‘৬৯ সালে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন বহুবার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআই-এর চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দফতরের কাছে আটক হন। এরপর চার মাস নির্যাতনের শিকার হন। পরে পাগলের অভিনয় করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন সম্মুখ সমরে। যুদ্ধ করেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ধরে নিয়ে কারাগারে নির্মম নির্যাতন করে। পরে ছাড়া পেয়ে তিনি যখন ভারতে আগরতলায় যান তখন তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক-মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল ওভানের নেতৃত্বে মাউন্টেন ডিভিশনের একটি টিমের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ফের পালিয়ে যান ভারতে। ওই সময় সেখানে একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজও করেছেন তিনি। দেশ ও দলের জন্য তার আত্মত্যাগ খুব বেশি ছিল। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।’-বাংলা ট্রিবিউন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন