বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ ১১:১৬:০২ পিএম

সুবর্ণজয়ন্তীর বছরেই শিকার জেনোসাইডের

খোলা কলাম | রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৪:২১:৪৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ১৯২১
সালের ১ জুলাই। ১৯৭১ সাল ছিল পঞ্চাশ বছর পূর্তির বছর। কিন্তু দুর্ভাগ্য,
সুবর্ণজয়ন্তীর এই বছরেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত এ শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানটি শিকার হয়েছিল জেনোসাইড বা গণহত্যার। আমরা জানি, আমাদের
স্বাধীনতার ওই বছরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসররা
গোটা বাংলাদেশেই নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে প্রতিটি বাঙালিকে হত্যার জন্য
টার্গেট করেছিল, যে কেউ যে কোনো সময়ে যে কোনো স্থানে তাদের হাতে নিহত হতে
পারত। তবে ভূমিকম্পের যেমন এপিসেন্টার বা কেন্দ্র থাকে, তেমনি জেনোসাইডেরও
কেন্দ্র ছিল এবং সেটা ছিল আমাদের প্রিয় এই প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


তবে এ ধরনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মূলে কিন্তু
রয়েছে গৌরবের একটি অধ্যায়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা
বাংলাদেশের মানুষকে প্রস্তুত করেছিলেন স্বাধীনতার জন্য। এবং আমাদের জন্য
অবশ্যই আনন্দ ও গর্বের যে, এই সুবর্ণজয়ন্তীর বছরেই এসেছিল বাংলাদেশের
স্বাধীনতা। পাকিস্তানের সেনাকমান্ড এবং তাদের পেছনের সিভিল-মিলিটারি
ব্যুরোক্র্যাসির হিসাবে ভুল ছিল না। তারা দেখেছে সেই ১৯৪৮ সালের মার্চ
মাসে- যখন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানের বিশাল
সমাবেশে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা
ঘোষণা করেছিলেন, তখন বাঙালিরা সেটা গ্রহণ করেনি। বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সে
সময়ে স্কুলছাত্র মোস্তফা মনোয়ার তার কবিপিতা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে উপস্থিত
ছিলেন সে সমাবেশে। তিনি আমাকে বলেছেন, `ওই বয়সেই জিন্নাহ সাহেবের কথা শুনে
ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম। আমি ছবি ও কার্টুন আঁকতে জানতাম। ওপরের ক্লাসে পড়া
ছাত্রনেতারা আমাকে দিয়ে ভাষা আন্দোলনের জন্য পোস্টার লেখাতেন।`


রেসকোর্স ময়দানের বক্তৃতার পরদিন জিন্নাহ
সাহেব কার্জন হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে উর্দুর সপক্ষে ফের
সওয়াল করতে গিয়েই জোর আওয়াজ শুনলেন- `না, না- এটা হতে পারে না`। তার এ দুটি
ভাষণের সপ্তাহখানেক আগেই ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে হরতাল
পালিত হয়, যার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। ১৯৫২ সালের ২১
ফেব্রুয়ারির হরতালের পেছনেও অগ্রণী এ বিশ্ববিদ্যালয়। সে দিনের সমাবেশটি
হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমতলায় (বর্তমান মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিট
এলাকায়)। সেখান থেকে ২০০ হাত দূরে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে
(বর্তমানে জগন্নাথ হল অক্টোবর ভবনের স্থানে) স্পিকারের হাতে স্মারকলিপি
প্রদান ও ক্ষোভ জানাতে ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে যেতে চেয়েছিল। মাঝখানে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ এলাকায় গুলি হয়। ষাটের দশকের মাঝামাঝি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কলাভবন নীলক্ষেত এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। আমতলার পরিবর্তে ছাত্রছাত্রীদের
সমাবেশ হতে থাকে নতুন গজিয়ে ওঠা বটতলায়। পাকিস্তানের `বিশ্বসেরা
সেনাবাহিনী`র ক্ষোভ-রোষ কিংবা নির্বুদ্ধিতার মাত্রা দেখুন- ১৯৭১ সালে
দেশজুড়ে যখন গণহত্যা চলছিল, ঠিক তখনই কোনো এক রাতে তারা সমূলে উপড়ে ফেলে
বটগাছটিকে (বর্তমানে যে বটগাছটি অপরাজেয় বাংলা ও কলাভবনের সামনে রয়েছে সেটি
বাংলাদেশের সমান বয়সী, ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেটি রোপণ করেন
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি)। যে আর্মি একটি বটগাছকে প্রবল
শত্রু গণ্য করে, তারা কি কখনও যুদ্ধে জয়ী হতে পারে?


তবে তাদের রোষের সঙ্গত কারণ ছিল- এই
বটতলার সমাবেশেই ১৯৭১ সালের ২ মার্চ বাংলাদেশের লাল-সবুজ-সোনালি পতাকা
উত্তোলন করেছিলেন সে সময়ের ডাকসু ও ছাত্রলীগের নেতারা। এ যে বড় গৌরবের
ঘটনা। আমার সোনার বাংলা... গানটি যে জাতীয় সঙ্গীত হবে, সেটাও ওই ছাত্র
নেতারাই দেশবাসীকে জানিয়ে দেন। তারা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
আদর্শের অনুসারী এবং এ ধরনের `রাষ্ট্রদ্রোহী` কর্মকাণ্ডের পেছনে অবশ্যই
জননন্দিত নেতার সমর্থন ছিল। তবে ছাত্রনেতা ও তাদের অগণিত সমর্থকের
দুঃসাহসেরও তুলনা নেই। কী যে এক সময় ছিল আমাদের জীবনে!


পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সময় ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সে সময়ের অগ্রণী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের নানা
প্রান্ত থেকে সেরা ছাত্রছাত্রীরা এ প্রতিষ্ঠানে পড়তে আসত। এ ক্যাম্পাসের
লাগোয়াই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ- সেরার সেরা
ছাত্রছাত্রীদের প্রথম পছন্দের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান। অদূরেই ইডেন কলেজ, ঢাকা
কলেজ, বদরুন্নেছা কলেজ। এমন উচ্চশিক্ষা-বলয়ে স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে
শিক্ষার্থীরা উচ্চকণ্ঠ থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কারণ তারা ইতিহাসের
গতিধারা সহজে বুঝতে পারে।


কেবল ছাত্ররাই তো নয়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অর্থনীতি বিভাগের মাত্র ২৬ বছর বয়সী শিক্ষক রেহমান সোবহান প্রকাশ্যে বলেন-
পাকিস্তানে দুই অর্থনীতি। তার উত্তর দিতে মাঠে নামতে হয় পাকিস্তানের
প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানকে। তিনি বলেন, পাকিস্তানে দুই নয়, এক
অর্থনীতি রয়েছে। রেহমান সোবহানের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক
শিক্ষক, যেমন- আবদুর রাজ্জাক, জিসি দেব, আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ, মুনীর
চৌধুরী, মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, আবদুল মতিন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম (অর্থনীতি
বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান), আনিসুর রহমান, মোশাররফ
হোসেন, আনিসুজ্জামান, অজয় রায়, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশেদুল হাসান,
জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা প্রমুখ বরেণ্য শিক্ষক স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে
বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন। পাকিস্তানের ব্রুট আর্মি
তো শত্রু চিনতে ভুল করেনি। আর শত্রু দমনে তারা ঘনিষ্ঠ মিত্র বেছে নিতেও
ভুল করেনি- জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ প্রভৃতি দল স্বেচ্ছায় আর্মির পাশে
দাঁড়ায়। সঙ্গত কারণেই এ প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তানের গণহত্যা অভিযানের প্রধান
টার্গেট হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্থানে ১৯৭১ সালে শহীদ শিক্ষক,
ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারীদের যে তালিকা প্রদর্শিত হচ্ছে, তাতে প্রায় দেড়শ`
জনের নাম রয়েছে। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট অভিযানের রাতে জগন্নাথ হল ও
সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। টানা ২৫
দিনের আন্দোলনের সময় ক্লাস নেই, পরীক্ষা নেই- তাই অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে
চলে গিয়েছিলেন। অন্যথায়, শহীদের এ তালিকা আরও দীর্ঘ হতো। শহীদের এ তালিকায়
একটি নাম রয়েছে মধূসুদন দে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ক্যান্টিনটি
পরিচালনা করতেন, তার নাম ছিল মধুর ক্যান্টিন। তার অপরাধ ছিল- ছাত্র
আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এ ক্যান্টিনে বসে আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে
আলোচনা-তর্ক করতেন। তাদের বাকিতে চা-শিঙ্গাড়া খাওয়াতেন। দিনের পর দিন টাকা
বকেয়া থাকলেও ক্ষোভ প্রকাশ করতেন না। তাকে পাকিস্তানি শাসকরা `আইবি` বা
ইনফরমার হতে প্রস্তাব দিয়ে কখনও সফল হয়নি। উল্টো তিনিই সরকারি গোয়েন্দাদের
গতিবিধি জানিয়ে দিতেন ছাত্রনেতাদের। ২৫ মার্চ যে রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়, জিসি দেব প্রমুখকে হত্যা করা হয়- সেই
রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চা-শিঙ্গাড়া বিক্রেতাও সপরিবারে হত্যার
টার্গেট!


আমাদের এই গৌরবের প্রতিষ্ঠানটি কেবল
রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য নয়, জ্ঞানের রাজ্যে ক্রমশ আলো ছড়ানোর জন্যও
সুখ্যাতি অর্জন করেছে। `কত জ্ঞানী-গুণী কত মহাজন`- প্রকৃত অর্থেই এমন কথা
বলা যায় এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে। অবিভক্ত ভারতের এক প্রান্তে অবস্থিত এ
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক সত্যেন বোস তো পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেতেই
পারতেন। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক গুরুদের গুরু হিসেবে স্বীকৃত। এ শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানেরই অর্থনীতি বিভাগের আরেক গুণী শিক্ষক ড. অমিয় দাশগুপ্ত নোবেল
পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেনের পিএইচডির গাইড ছিলেন, যিনি নিজেও এ পুরস্কার
পেতে পারতেন বলে অর্থনীতি শাস্ত্রের অনেক পণ্ডিত মনে করেন।


আমাদের এই অগ্রণী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি
শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে। ২০২১ সালে এ গৌরবের জয়ন্তী উদযাপিত হবে, ঠিক সে
বছরেই বাংলাদেশ পালন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বিশ্ববিদ্যালয়ের
সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশ অর্জন করেছে স্বাধীনতা, যার পেছনে ছিল এ
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, ছাত্র ও কর্মচারীদের অনন্য অবদান। আর বিশ্বদ্যিালয়ের
শতবর্ষের বছরে দেশের জন্য লক্ষ্য নির্ধারিত হয়ে আছে- মধ্যম আয়ের দেশে
উন্নীত হওয়া। এ লক্ষ্যপানে ধাবিত হচ্ছি আমরা এবং ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য
অর্জন দৃশ্যমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও নিজের
শতবর্ষ পালন নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সামনের সারিতে থেকে যোগ্য ভূমিকা
রাখার বিষয়টি যুক্ত। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ব্যতিক্রমী কিছু করা।
ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তা, সবার জন্যই এ বার্ষিকী গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা নতুন কী দিতে পারি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা, নতুন প্রকল্প গ্রহণ,
আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি সংশ্নিষ্টতা- কত কিছুই না
আমরা ভাবতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন
যৌথভাবে নতুন অবকাঠামো নির্মাণসহ বহুবিধ কর্মোদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নেই ২৭
বছর। সর্বশেষ যারা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তাদের সন্তানরাও
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জীবন শেষ করেছে। যে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা
বিভিন্ন সময়ে গোটা দেশের শুধু শিক্ষার্থীদের কাছে নয়, সব শ্রেণি-পেশার
মানুষের কাছে বরণীয় হতো সর্বদা অন্যায়ের প্রতিবাদকারী হিসেবে, ন্যায়ের
পক্ষে যারা দুঃসাহসী অবস্থান গ্রহণে ছিল দ্বিধাহীন, সেখানে কেন এই দীর্ঘ
সময়েও নেই ছাত্র সংসদ? ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ বিষয়টি নিশ্চয়ই ভেবে
দেখবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্ব পেতে হবে।
সর্বোপরি, এটা হতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবনার বিষয়। সংশ্নিষ্ট সবাইকে
এটাও ভাবতে হবে যে, ছাত্র সংসদ কি কেবল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের জনপ্রিয়তা
যাচাইয়ের জন্য, নাকি ছাত্রছাত্রীদের প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও সাংগঠনিক ক্ষমতা
প্রকাশের একটি কার্যকর উপায়? বহু বছর আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে ছাত্র সংসদ
নির্বাচিত হয়েছে, তাতে কিন্তু ছাত্র সংগঠনের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের বিষয়টি
বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কখনও কখনও ছাত্র সংগঠনের পেছনে যে রাজনৈতিক দল রয়েছে,
তাকেও গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করেছে ছাত্রছাত্রীরা। সম্ভবত এ কারণেই প্রধান
রাজনৈতিক দলগুলো ডাকসুতে জয় বা পরাজয়কে জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার
মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে। জাতীয় রাজনীতির মূল ধারা থেকে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশের অন্য উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো কখনও বিচ্ছিন্ন
ছিল না। এখনও থাকবে না। কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের, বিশেষভাবে
পড়াশোনা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বহুমুখী সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে
যুক্তদের জন্য কেন ছাত্র সংসদের পদগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে না? আমরা কি
এমন কোনো পদ্ধতি বের করতে পারি না যেখানে `সাধারণ শিক্ষার্থী` হিসেবে
চিহ্নিত ছাত্রছাত্রীরা, যারা কোনো সংগঠনে সক্রিয় আছে কিংবা নেই- কিন্তু
তাদের প্রতিভায় চমকিত করতে পারে আমাদের সবাইকে- ছাত্র সংসদে তাদের
নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে?


বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতবর্ষের মতো কোনো
বিপর্যয় নেমে আসবে না, শতবর্ষকে সামনে রেখে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। বরং
এর বিপরীতে আমাদের প্রত্যাশা- এ স্মরণীয় বছরকে আমরা সবাই মিলে নতুন আলোয়
উদ্ভাসিত করব, যা কেবল প্রতিষ্ঠানকে নয়, গোটা দেশকে আর্থ-সামাজিক ঈপ্সিত
লক্ষ্যপানে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।



সাংবাদিক
[email protected]


ঋণ: সমকাল



খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন