মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:১৪:১২ এএম

স্বর্ণালঙ্কার-নগদ টাকার লোভে খুন করা হয় বৃদ্ধা মিলুকে

নগর জীবন | মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০১:২৪:৩১ পিএম

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আরজত পাড়ায় বৃদ্ধা মিলু মিলড্রেড গোমেজকে স্বর্ণালঙ্কার-নগদ টাকার লোভে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জামির (২৫), পারভেজ (২০) ও নাঈম (১৯)।

সোমবার মহাখালী এলাকার একটি বস্তি থেকে পারভেজ ও নাঈমকে গ্রেফতার করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারাপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জামিরকে। বৃদ্ধার বাড়ির নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের লোভে তারা মিলু গোমেজের বাড়িতে ডাকাতি করার পরিকল্পনা নেয়। পরিকল্পনার প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন জামির। তিনি মাঝেমধ্যে বৃদ্ধার বাড়ির ঘর পরিষ্কারের কাজ করে দিতেন। ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে তারা বাসায় প্রবেশ করে বৃদ্ধাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। বৃদ্ধ অনিল গোমেজের মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দেয়। ঘর থেকে ২/৩ ভরির স্বর্ণালঙ্কার ও মাত্র ৩শ’ টাকা নিয়ে তিন তলার বারান্দা দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই বাড়ির বারান্দায় কোন গ্রিল ছিল না।

গত শুক্রবার সকালে আরজতপাড়ার ৩৮ নম্বর বাড়িতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বৃদ্ধা মিলু গোমেজকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আহত স্বামী অনিল হিউবার্ট গোমেজকে মহাখালীর স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রক্তমাখা ছুরি, এক জোড়া স্যান্ডেল ও ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, জামির মাঝেমধ্যেই ২/৩শ’ টাকার বিনিময়ে বৃদ্ধার ঘর পরিষ্কার করে দিতেন। দুই মাস আগে দম্পতি কানাডা থেকে ফেরার পর তার কাছে ধারণা হয় যে ওই বাসায় অনেক টাকা ও স্বর্ণলঙ্কার আছে। ঘটনার ৪/৫ দিন আগে জামির মহাখালীর একটি বস্তির পারভেজ ও নাঈমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জামির তার দুই সহযোগীকে নিয়ে ওই বাড়ির তিন তলায় বৃদ্ধার ফ্ল্যাটের কলিং বেল চাপ দেয়। মিলু গোমেজ নিজেই দরজা খুলে দেন। জামির বৃদ্ধার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করার পর এক গ্লাস পানি খেতে চায়। বৃদ্ধা এক গ্লাস পানি এনে প্রথমে ডাইনিং টেবিলে রাখেন। এসময় জামির লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে বৃদ্ধার গলায় ধরে। টাকা পয়সা না দিলে গলা কেটে ফেলবে-এমন কথা বলতেই বৃদ্ধা চিৎকার করেন। তখন জামির বৃদ্ধার গলায় পোঁচ দেয়।

এসময় বেডরুম থেকে বৃদ্ধ অনিল গোমেজ ছুটে আসেন। অনিলের সামনে জামির বৃদ্ধার গলায় অরেকবার পোঁচ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে বৃদ্ধের মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে সোফার ওপর বসিয়ে রাখে। তারা ঘরের জিনিসপত্র খুঁজে তেমন কোন স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ২/৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৩শ টাকা তারা পেয়েছিল। ওসব নিয়েই তারা বারান্দা দিয়ে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন