সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৮ ০৪:৩০:২৫ পিএম

জ্যামার দিয়ে মার্কিন রণকৌশল অকেজো করা সম্ভব

আন্তর্জাতিক | বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৬:১৮:১২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড এখন অনেকটাই মহাশূন্যকেন্দ্রিক। বিশেষ করে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস এই কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। মহাকাশকেন্দ্রিক যুদ্ধকৌশলে বিশ্বে যেকোনো দেশের চেয়েই অনেক গুণ এগিয়ে আছে তারা। তবে সম্প্রতি এই পদ্ধতির বিকল্প চিন্তা করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন।

জিপিএস নির্দেশিত বোমা, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নির্দেশিত সশস্ত্র ড্রোন কিংবা গোয়েন্দা ক্যামেরার সাহায্যে শত্রু অবস্থানের ছবি তোলা- এসবই এখন হচ্ছে মহাকাশ প্রযুক্তির মাধ্যমে। কিন্তু এই প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধকৌশলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে কখনো শত্রু যদি সামরিক বাহিনীর স্যাটেলাইটকে টার্গেট করে হামলা চালায় কিংবা এর সিগনাল আদান-প্রদানের পথে জ্যামিং করতে সক্ষম হয়, তাহলে এ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন যুদ্ধকৌশলের চিন্তাভাবনা করছে পেন্টাগন।

কলোরাডোর ফার্স্ট স্পেস ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল রিচার্ড জেলম্যান বলেন, ‘আমাদের হামলাপদ্ধতি পুরোপুরি জিপিএস ও স্যাটেলাইট যোগাযোগনির্ভর। কিন্তু এ কৌশল থেকে ফিরে এলে শিল্পযুগের সামরিক পদ্ধতিতে নির্ভর করতে হবে। যেখানে আমাদের অন্তত তিন গুণ বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক কমান্ডার বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর যুদ্ধকৌশলের প্রায় ৭০ শতাংশই এখন মহাশূন্যের সঙ্কেতনির্ভর। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের সেনাবাহিনীগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলের সুবিধার ব্যাপারটি বুঝতে পারছে। কারণ এখানে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।’

রাশিয়া ও চীন উভয়ই মহাকাশ থেকে যুদ্ধ পরিচালনায় সক্ষম এমন স্যাটেলাইট প্রস্তুত করছে, এমনকি কক্ষপথে যেকোনো বস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতাও থাকবে এসব স্যাটেলাইটের। কক্ষপথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থান পরিবর্তন করতে পারে এবং অচেনা বস্তু চিহ্নিত করতে পারে, এমন স্যাটেলাইট বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই আছে। কিন্তু জেলম্যান বলেন, যেকোনো শত্রুরাষ্ট্রের পক্ষে এসব স্যাটেলাইট অকেজো বা ধ্বংস করা অনেক সহজ, এমনকি নিজেদের স্যাটেলাইট তৈরি করার চেয়েও এটি সহজ যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য। এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, স্বল্পমূল্যের একটি জ্যামার স্থাপন করেও এর সিগনাল ব্যবস্থা বিকল করে দেয়া সম্ভব।

আর এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের মহাকাশনির্ভর যুদ্ধকৌশল কমিয়ে আনতে চাইছে। ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সৈন্যদের কাগজের ম্যাপ থেকে তথ্য উদ্ধার, নৌবাহিনীতে তারকার গতিবিধি দেখে পথচলার মতো বিষয়গুলো প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সাধারণত অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহৃত হতো। জেলম্যান বলেন, এখন আমাদের ম্যাপ বোর্ডে কোথায় আমাদের সৈন্যদের অবস্থান সেগুলো শেখানো হয়। কাজেই কখনো যদি ‘ব্লু ফোর্স ট্র্যাকার’ অচল হয়ে পড়ে, তবুও আমরা জানতে পারব কোথায় আমাদের সৈন্যরা আছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি বা ডিএআরপিএ সম্প্রতি এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। তারা এমন কিছু পদ্ধতি ঠিক করছে, যেগুলো জিপিএস প্রযুক্তি ছাড়াও কাজ করবে। অর্থাৎ স্যাটেলাইটের নির্ভরতা কমিয়ে আনলেও সামরিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে না। আর এতে ঝুঁকিও কমবে। সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক কৌশল প্রকাশ করেছেন, তাতেও মহাকাশ স্থাপনা ও এর ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।-এএফপি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন