মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ১২:১১:১৯ পিএম

আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিক্ষকরা

শিক্ষাঙ্গন | সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩:১১:২৬ পিএম

প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন নির্ধারণের দাবিতে আমরণ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিক্ষকরা। তৃতীয় দিনের মতো চলছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের এ অনশন।

২৫ ডিসেম্বর সোমবার জাতীয় শহীদ মিনারে তাদের আমরণ অনশন কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো চলছে।

অনশনের তৃতীয় দিনে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সাতজন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের মধ্যে চারজনই নারী।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাকলী দে সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত ছায়ায় সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার সহকর্মীরা জানান, তিনি (কাকলী) প্রথম দিন থেকেই অনশনস্থলে অবস্থান করছেন।

প্রায় একই সময়ে ঝালকাঠির উচ্চহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা প্রজ্ঞা লাবনী দীপাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকেও ছায়ায় সরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। লাবনীও শনিবার থেকে শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন।

অসুস্থ হওয়া শিক্ষকদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন ইব্রাহিম মেমোরিয়াল হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু সাঈদ। তিনি বলেন, মূলত না খেয়ে থাকার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

অনশনস্থলে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন কুমিল্লা থেকে আসা সহকারী শিক্ষক রায়হান। তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুর পর্যন্ত মোট সাতজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ।’ তবে তিনি সবার নাম ঠিকানা জানাতে পারেননি।

২৪ ডিসেম্বর রোববার অনশনস্থল থেকে জানানো হয়, শনিবার থেকে মোট ৩৩ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২৩ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। মহাজোটের অধীনে সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠনের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক এক দফা দাবি আদায়ের এ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পাটি, পত্রিকা বিছিয়ে পৌষের শীতের রাত পার করেছেন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ এসব শিক্ষকরা।

অনশনকারী শিক্ষকরা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এ বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) বেতন চান।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। এমনকি আগামী ১ জানুয়ারি বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণ উৎসবেও তারা যোগ দেবেন না।

শিক্ষক নেতারা জানান, অনশনে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকরা শুধু শনিবার শহীদ মিনারে অবস্থানের জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর রোববার শহীদ মিনার ছাড়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধও জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু অনড় শিক্ষকরা তাতে রাজি হননি। তবে সোমবার অনশন স্থলে মাইক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা।

রোববার বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী শিক্ষকদের আমরণ অনশনে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত অনশনকারী শিক্ষকেরা ইতিবাচক সাড়া পাননি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন