শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৬:০৯:০৮ এএম

শতাব্দি ওয়াদুদ যেভাবে ‘এডিসি সাজেদুল’

বিনোদন | সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৩:২৯:০৯ পিএম

শুরুর দিকে এডিসি সাজেদুল চরিত্রের জন্য কোন অভিনেতাকেই মনের মতো মনে হচ্ছিল না। এই ধরণের আর কোন যুৎসই রেফারেন্স সিনেমা বা নাটক এদেশে না থাকাতে সমস্যাটা দেখা দেয়। ইন্ডিয়াতে এই ধরণের চরিত্রাভিনেতা অসংখ্য দেখা গেলেও আমাদের এদেশে কাউকে তেমন মনে ধরছিল না। তাই একজন পেশাদার উর্ধ্বতন গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তার ব্যক্তিত্ব, অবয়ব এবং নেতৃত্ব যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলা যাবে কিনা তা নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ সংশয় সৃষ্টি হয়। থ্রিলার স্টোরিটির অন্যতম কথক কিংবা অনুঘটক হিসেবে এই চরিত্রের কাস্ট দুর্বল হলে সিনেমাটিও দুর্বল হয়ে যাবার সম্ভভাবনা থেকে যায়। তাই নিরূপায় হয়ে নিকট অতীতের এক সিনেমার নায়ককে উপযুক্ত ভেবে প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি রোমান্টিক বা সামাজিক সিনেমায় কাজ করতে অভ্যস্ত বিধায় আমাদের সিনেমার গল্পটি তার মনে ধরল না। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন, “এতদিন পর সিনেমায় যদি আবার কাজ করি তবে কোন হিট সিনেমাতেই কাজ করব। এই সিনেমাটি এদেশে চলবে না।......।’’

হতাশায় আচ্ছন্ন পুরো টিম। শুধু এই একটি ক্যারেক্টার লক করা যাচ্ছে না। পরিচালক সাহেব চরম বিরক্ত হয়ে বলেই বসলেন, “সব বাদ দে। এই চরিত্র তুই কর।’’ চরম হতাশার মাঝে এই প্রস্তাবটিই ছিল চরম বিনোদনের খোরাক। যাহোক, শেষমেশ পরিচালক সাহেবের মাথা কাজ করতে শুরু করল। তিনি শতাব্দী ওয়াদুদের কথা প্রস্তাব করলেন। কিন্তু নেগাটিভ রোলে কাজ করে বিখ্যাত এই অভিনেতা একজন বিসিএস (পুলিশ) অফিসারের ব্যক্তিত্বে কতটুকু ঢুকতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই গেল। তারপরও তাকে নিয়েই স্যুটিং শুরু হয়ে গেল।

স্যুটিং সেটে তাকে সিভিল ড্রেসের একজন গোয়েন্দা হিসেবে প্রথমদিন দেখেই মনে ধরে গেল। সিনিয়র অভিনেতা হওয়ার পরও তার মধ্যে শেখার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। একবার পরিচালকের কাছে গিয়ে, আরেকবার আমার কাছে এসে তিনি তার চরিত্রটি বুঝে নিচ্ছিলেন। অত:পর প্রথম দিনের সুটিং-এ তার ডায়ালগ ডেলিভারি দেখেই বুঝে নিতে কারও অসুবিধা হল না যে, তিনিই এই চরিত্রের যথোপযুক্ত চরিত্রাভিনেতা। এরপর তিনি যা করেছেন তা শুধুই ইতিহাস। অসংখ্য তারকা অভিনেতার মাঝেও তিনি তার মেধা এবং যোগ্যতা দিয়ে ‘ঢাকা অ্যাটাক` সিনেমার অন্যতম একটি স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। একজন গোয়েন্দা পুলিশের ভূমিকায় তার এই অনবদ্য অভিনয় বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। চরিত্রটি যথাযথভাবে দাঁড় করাতে পরিচালক দীপংকর দীপনের অবদান অনস্বীকার্য।

এখনও ‘যমুনা ব্লক বাস্টার সিনেমা`য় চলছে ঢাকা অ্যাটাক সিনেমাটি। যারা এখনও দেখেননি তারা গিয়ে দেখে আসুন।

কোন তুলনা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, আপন মহিমায় দ্যুতি ছড়াক এদেশের প্রতিটি সিনেমা। আমাদের সিনেমা আমাদের গল্পে আমাদের ঢং-এ আমাদের কথা বলুক – এই কামনাই করি। এদেশের প্রতিটি সিনেমাই আমাদের সিনেমা।

বাংলাদেশি মৌলিক সিনেমা ও সংস্কৃতির জয় হোক।
-সানী সানোয়ার
স্টোরি, কনসেপ্ট, টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেশন, ঢাকা অ্যাটাক সিনেমা প্রজেক্ট।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন