মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:১৮:২৬ এএম

লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ীর কোলাহলে মুখরিত সম্ভাবনার নতুন দ্বীপ

জাতীয় | মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৫:০০:১৩ পিএম

লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখিদের কোলাহলে মুখরিত একটি দ্বীপ। চারপাশে সমুদ্রের কোলাহল।

১৫-২০ বছর আগে থেকে স্থানীয়রা এখানে যাতায়াত করলেও এবার পর্যটকরা যাচ্ছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটাসংলগ্ন গভীর সাগরে এর অবস্থান। পর্যটকসহ অন্যরা বিজয়ের মাস ডিসেম্বর থেকে ভ্রমণ শুরু করায় এর নামকরণ হয়েছে `বিজয় চর`।

পর্যটক মো. আরিফুর রহমান জানান, দ্বীপটির কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোনে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান। কুয়াকাটা সৈকত থেকে কুয়াকাটা সি ট্যুরিজমের ফাইবার বোটযোগে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তিনি সেখানে যান। সমুদ্রের নীল জল ভেদ করে কাছাকাছি পৌঁছতে অতিথি পাখিদের ডাকাডাকি ভেসে আসে। এর মাটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে লাল কাঁকড়ার দল। দেখলে মনে হয় প্রকৃতি চরে লালগালিচা সাজিয়ে রেখেছে পর্যটকদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য। এর আয়তন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।

কুয়াকাটার গভীর সমুদ্রে জেগে ওঠা দ্বীপটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। আমি অঞ্চলটি পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার আওতাভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।`

স্থানীয় জেলে মো. মফিজ মাঝি বলেন, ২০০০ সালে ওই চরে আটকে পড়েছিলাম। তখন আমি চট্টগ্রামের ভুলু মেম্বারের এফবি নাজমা ট্রলারের মাঝি ছিলাম। ১৭ বছর আগে দ্বীপটি ডুবোচর হিসেবেই আমাদের কাছে পরিচিত ছিল। আটকা পড়ার পর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে মহিপুরে ফিরে আসি।

তিনি আরো বলেন, এটি আমাদের কাছে আইচা বা মালই টিলা নামে পরিচিত। কেননা এটি দেখতে নারিকেলের আইচা বা মালইয়ের মতো । তবে এর পশ্চিম দিকে একটি বিশাল লেজ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার লম্বা এবং আড়াই কিলোমিটার প্রস্থ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে আমি ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারের জন্য গিয়েছিলাম। সকালে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরেছি।

তিনি জানান, এই দ্বীপের পশ্চিম দিকে আরো একটি ছোট দ্বীপ রয়েছে। যেটি স্থানীয়দের কাছে `হাইরের চর` নামে পরিচিত। এটি কুয়াকাটা থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের মধ্যে। এটি আধা কিলোমিটার প্রস্থ এবং লম্বায় এক কিলোমিটার।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মাছুমুর রহমান বলেন, আমি ভিডিও এবং স্থির ছবির মাধ্যমে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। সাগরের মাঝে জেগে ওঠা দ্বীপ ১ নম্বর খাস হিসেবে সরকারই মালিক। এর আয়তন ও পর্যটক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য আমি মঙ্গলবার (আজ) যাব। এরপর করণীয় ঠিক করতে পর্যটন মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব। কুয়াকাটার সঙ্গে একে সংযুক্ত করে ভ্রমণ উপযোগী পরিকল্পনা নেওয়া হবে।`

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন