মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:২৯:০৪ পিএম

পয়সা কামিয়েছো ভালো কথা, লজ্জাটা কোথায় হারিয়েছো?

খোলা কলাম | মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৭:২০:০৮ পিএম

ঢাকার যানজটে খুবই উদ্বেগ ও বিরক্ত প্রকাশ করেছেন বিতর্কিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে ঢাকার যানজটের মূল কারণ ও এর যথাযথ প্রতিকারের বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন।

নতুন সময়ের পাঠকদের উদ্দেশে ঢাকার যনজট সম্পর্কে লেখা তার মন্তব্যগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘ঢাকায় শুনেছি প্রচণ্ড জ্যাম। সামান্য পথ পেরোতেই কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। আমি বুঝি না মানুষ কেন গাড়ি চড়েই সবখানে যেতে চায় এমন কী এক দু’কিলোমিটার রাস্তাও। হাঁটে না কেন মানুষ? দেশে যাওয়ার সুযোগ পেলে আমি তো শান্তিনগর থেকে শ্যামলী হেঁটে যাবো, শ্যামলি থেকে সাভার।’

‘কেউ কেউ বলে ফুটপাত নেই! নেই কেন? ফুটপাতে কেনাবেচা উঠিয়ে দিয়ে হাঁটার রাস্তা তৈরি করে নাও। এত গাড়িই বা কেন শহরে? রাস্তায় গাড়ি পার্ক করলে জরিমানা কর। গাড়ি শহরের বাইরে চালাবার জন্য রাখো। গাড়ি নিয়ে দূরে কোথাও যাও। বাইরের গাড়ি শহরের ভেতর ঢুকতে চাইলে হাই ট্যাক্স বসাও। শহরে পাবলিক বাসে চড়ো। মেট্রো রেল নেই? উফ! ও না হলে হিউজ জনসংখ্যার দেশে কী করে চলবে! ভালো বাস নেই? ঝকঝকে ডবল ডেকার কিনে নাও। সাইকেল চালাও। সাইকেল। বাইসাইকেল। পল্যুশান? মাস্ক পরে নাও। সরকারকে বলো বড় রাস্তার কিনার দিয়ে সরু করে সাইকেলের রাস্তা বানাতে, হাঁটার রাস্তা বানাতে।’

‘জ্যামের একটি বড় কারণ গাড়ির সংখ্যা বেশি, আরো একটি কারণ, রাস্তার সংখ্যা কম। রাস্তা আরো কিছু না বানালে চলবে না। বাংলাদেশের জন্য কি এসব টু ইউটোপিয়া? কী জানি! আমার তো মনে হচ্ছে এ এমন কোনও সমস্যা নয় যার সমাধান নেই। সমাধানের ইচ্ছেটা প্রবল হওয়া চাই। জ্যাম মানুষের দিন খেয়ে নিচ্ছে। রাতটুকুই সম্ভবত আছে ওদের। জাতিটা নিশাচর হয়ে গেলেও মন্দ হয় না।’

‘সবাইকে ঢাকামুখী হতে হয় কেন? বেইজিং-এ তো বেইজিং-এর বাইরের লোকদের মাইগ্রেট করতেই দেয় না। আমি চিন সরকারের মতো ফ্রিডম অফ মুভমেন্টের বিরুদ্ধে নই। তবে ডিসেন্ট্রালাইজেশন যে জরুরি তা বুঝি। ঢাকার আশেপাশে পেরিফেরি ডেভেলপ করলে ঢাকার ওপর চাপ কমে। দেশে এত বিজ্ঞ লোক থাকার পরও মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কেন? মাঝে মাঝে মনে হয় অনেকে বড়লোকি দেখানোর লোভ সামলাতে পারে না। শুনেছি ঢাকার রাস্তায় নাকি বিএমডাব্লু, মার্সিডিজ চলে। গরিব দেশে এত দামি গাড়ি! পয়সা কামিয়েছো ভালো কথা, লজ্জা জিনিসটা কোথায় হারিয়েছো?’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন