সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৬:৪২:২২ এএম

মডেল রাউধা হত্যা মামলায় পিবিআই’র তদন্ত শুরু

আইন আদালত | বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৪:৩৩:৪২ পিএম

রাজশাহীতে মডেল রাউধা আতিফের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটির তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো রাউধার মৃত্যুর রহস্য তদন্ত করা হচ্ছে।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পিবিআই’র কয়েকজন কর্মকর্তা রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পিবিআই রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির, পিবিআই জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ।

এর আগে, গত ১৭ অক্টোবর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাতে বলা হয়েছিল, রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে এই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত। আর এ জন্যই মামলাটির তদন্তে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পিবিআইকে।

এর আগে চারবার তার মৃত্যুর তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রতিবারই মৃত্যুর কারণ হিসেবে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ মামলার তদন্ত করে সিআইডি। এ জন্য দ্বিতীয়বারের মতো ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশে তারা নতুনভাবে আবার রাউধা আতিফের মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে দেখবে। এ কারণে মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, যাতে নতুন কোনো উপাদান পাওয়া যায়।

তিনি জানান, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ নারাজি দেওয়ায় এবং পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করার অনুমতি চাওয়ায় আদালত এ নির্দেশ দিয়েছে। রাউধা আতিফের বাবার অনুমতি প্রার্থনায় গত ২৮ নভেম্বর আদালত নতুনভাবে মামলার তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধারের পর ৩১ মার্চ মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওই প্রতিবেদনে রাউধা আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করে মেডিকেল বোর্ড। পরে গত ১১ এপ্রিল রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাউধা আত্মহত্যা করেছে বলে তাদের মনে হয়েছে।

রাউধার মৃত্যুর ১২ দিন পর গত ১০ এপ্রিল তার সহপাঠী সিরাতকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। রাজশাহীর আদালতে করা ওই মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

সেই অনুযায়ী হত্যা মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলার তদন্তের ভারও দেয়া হয় সিআইডিকে।

গত ১৪ এপ্রিল হত্যা মামলাটি শাহমখদুম থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বারের মতো রাউধার লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সে প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার এই তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। তাই মামলাটি পাঠানো হয়েছে পিবিআইয়ে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন