শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ ০৬:০২:৫৩ পিএম

তিন টাকার আলু, ৩ হাত ঘুরলেই ১০-১২ টাকা

জেলার খবর | মাদারীপুর | বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১২:৪৬:৩১ পিএম

কোল্ডস্টোরেজে পড়ে আছে ১০ হাজার বস্তা আলু। প্রতি বস্তায় ৮০ কেজি। প্রতিবস্তা আলুর কোল্ডস্টোরেজের ভাড়া ৩’শ টাকা। আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষক বাধ্য হয়ে ভাড়া পরিশোধ না করে নিলামে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে হিমাগারের কর্তৃপক্ষকে।

সেই আলু কোল্ডস্টোরেজ হতে কেজি প্রতি ২.৫-৩টায় টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারেই সেই আলুর দাম ১০-১৩টাকা। আলুর এই অবস্থার জন্য প্রধানত বাজার মনিটরিংকে দায়ী করছে কৃষক ও ভোক্তারা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা মনে করেন অতিরিক্ত মজুদ ও অন্য জেলা হতে আলু আমদানিও আলুর এই অবস্থার জন্য দায়ী।

বছরের শুরুতে আলুর বাম্পার ফলনে খুশি ছিল কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাই আলু মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় প্রায় ৬৫ হাজার বস্তা আলু মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে মজুদ করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই আলু এখন পথে বসিয়ে দিয়েছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

আলু মজুদ রাখার পর হতে মূল্য বৃদ্ধির আশায় কোল্ডস্টোরেজে রেখে অপেক্ষা করতে থাকে তারা। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ অর্থাৎ ১ মার্চ হতে ৩০ নভেম্বর মধ্যে ৫৫ হাজার বস্তা আলু লোকসানে বিক্রি করলেও এখনও ১০ হাজার বস্তা রয়েছে অবিক্রিত।

মাদারীপুর কোল্ডস্টোরেজ এর ম্যানেজার মো. আব্দুল করিম, মাদারীপুর কোল্ডস্টোরেজে ৯ মাসে ৮০ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা আলুর জন্য ৩শ টাকা ভাড়া দিতে হয়। প্রতিবছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আলু স্টোরেজ হতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিয়ে গেলেও এবছর এখনও স্টোরেজে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার বস্তা। আর এগুলো এখন গো-খাদ্য ও লোকসান দিয়ে আমরা নিলামে ১৫০-২০০শ টাকা বিক্রি করছি।

পুরান বাজারের কয়েকজন আড়তদার জানান, মাদারীপুর কোল্ডস্টোরেজে প্রচুর আলু মজুদ থাকলেও অন্য জেলা হতেও আলু সরবরাহ করেন আড়তদাররা।

সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাদারীপুর কোল্ডস্টোরেজ হতে বিক্রিত প্রতিকেজি আলু ২.৫-৩টার আলু বিক্রি হলেও সেই আলুই আড়তদারা বিক্রি করছেন ৬.৫-৭ টাকায়।

পুরান বাজার কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোক্তাদের মাঝে পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকা।

যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ে ফলন ঘটে আলু, আর সেই আলু কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পেলেও লাভবান হচ্চে মধ্যস্বত্বভোগীরা। বাজার মনিটরিং না থাকায় নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে কৃষক ও মজুদ ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটরিং কাজে সরকার যথাযথ নজর দিবে এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন