মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ০২:৫৫:০০ এএম

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ভারতীয় হিন্দু তরুণী আকিলা

আন্তর্জাতিক | বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:৫১:১৬ পিএম

অনেক সময় উপন্যাসের চেয়েও অবাস্তব কাহিনী হয়ে উঠে নির্মম বাস্তবতা। তেমনই দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ভারতীয় নব মুসলিম তরুণী ‘হাদিয়া’। কলকাতায় চার বছরের শিশুর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ, গুজরাটে নির্বাচনী উত্তাপ, বিরাট কোহলির অনবদ্য ক্রিকেট- এসবের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে তরুণী হাদিয়ার আর্তনাদ। কারণ হাদিয়ার ‘কল্যাণার্থে’ রাষ্ট্র যা করছে, তাতে শান্তির পরিবর্তে তার জীবন আরো হাঁসফাঁস হয়ে উঠেছে। উপন্যাসকেও হার মানায় সে গল্প।

হাদিয়া জানান, তিনি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন, এতে কোনো চাপ ছিল না, কেউ ধর্ম পরিবর্তনেও বাধ্য করেনি তাকে। তিনি স্বজ্ঞানেই নিজের সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছেন। কিন্তু হাদিয়ার বাবা তা মানতে নারাজ। ‘লাভ জিহাদ’ তত্ত্বে বিশ্বাসী এই বাবার দাবি, তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাদিয়ার ধর্মান্তরিত হওয়া এবং মুসলিম যুবককে বিয়ে করা কোন বৃহত্তর চক্রান্তের অঙ্গ কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় আদালত।

তিনি বাবা-মায়ের কাছে নাকি স্বামীর কাছে থাকবেন, নাকি সব কিছু থেকে দূরে গিয়ে আপাতত পড়াশোনায় মন দেবেন; তাও এখন আদালতের বিচারাধীন বিষয়। কিন্তু এ অবস্থা থেকে মুক্তি চেয়েছেন হাদিয়া নামের ওই তরুণী। তার অভিযোগ, ভালবাসার মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘদিন দূরে রাখা হয়েছে তাকে। এটা বড় রকের মানসিক নির্যাতন। হাদিয়ার আকুল আর্তি, তিনি ভালবাসার মানুষের কাছে ফিরে যেতে চান। আদালতের পরামর্শ অনুযায়ী ফের লেখাপড়াও শুরু করতে রাজি তিনি, কিন্তু অবশ্যই তা স্বামীর তত্ত্বাবধানে।

অথচ আদালতের রায়ে তাকে বাড়িতে বা শ্বশুরবাড়িতে নয়, কলেজ হোস্টেলে থাকতে বলা হয়েছে। বাবা-মা বা স্বামীর অভিভাবকত্বে নয়, কলেজের ডিনের স্থানীয় অভিভাবকত্বে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে হাদিয়াকে।

মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলতে চাইছে এ ব্যাপারে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে নাগরিক অধিকার নিয়ে। সংবিধান যে মৌলিক অধিকার দিয়েছে ভারতীয় নাগরিককে, যে ব্যক্তিস্বাধীনতা দিয়েছে, হাদিয়ার ক্ষেত্রে সে সব কোথায় যাচ্ছে? তার কিছুই কি মানা হচ্ছে?

আক্ষেপ নিয়ে এই তরুণী বলেন, আমার ব্যক্তি জীবন, ভালবাসা ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে ঘিরে প্রচণ্ড টানাপোড়েনের জীবন কাটাতে হচ্ছে। এই টানাপোড়েনের এক প্রান্তে স্বামী অপর প্রান্তে বাবা-মা। হাদিয়া তার ভালবাসার মানুষের কাছে ফিরতে চরম উদ্বেগ ও অস্থিরতায় ভূগছেন। কিন্তু কিছুতেই পারছেন না। আদালত তাকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ভারতের কেরালা রাজ্যের ২৪ বছর বয়সী আকিলা অশোকান, যিনি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে ‘হাদিয়া’ নাম রেখে শাফিন জাহান নামের এক ছেলেকে এক বছর আগে বিয়ে করেন। কিন্তু হাদিয়ার বাবা এ ঘটনায় কেরালা হাইকোর্টে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, জঙ্গিরা চক্রান্ত করে তার মেয়ে আকিলাকে ধর্মান্তরিত করেছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এখন তার তদন্ত করছে।

এদিকে, হাইকোর্ট হাদিয়ার বিয়ে বাতিলের নির্দেশ দেয়। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান হাদিয়ার স্বামী শাফিন। শীর্ষ আদালতে হাদিয়ার স্বামী জানান, বিয়ের দুই বছর আগে স্বেচ্ছায় মুসলিম হন হাদিয়া। তাকে মুসলিম হতে কেউ বাধ্য করেননি। কিন্তু কে শুনে কার কথা। আদালতের রায়ে চাপা পড়ে গেছে হাদিয়া ও শাফিন জাহানের আর্তি। -আনন্দ বাজার।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন