বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮ ০৫:৫৩:১৪ পিএম

মজিদপুর জমিদার বাড়িতে অতীতের হাতছানি

জেলার খবর | কুমিল্লা | শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৬:২৬:৩৭ পিএম

কুমিল্লার তিতাসের মজিদপুর জমিদার বাড়িতে গেলে খানিকটা সময়ের জন্য আপনি চলে যেতে পারেন অতীতে। হয়তো অনুভব হবে জমিদার বাড়ির আগের কোলাহল। কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনটা ভালো হয়ে যাবে।

দুইশ’বছরের প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি অবহেলায় পড়ে আছে। দিন দিন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে। ভবনের কোথাও জন্মেছে পরগাছা। কোনো অংশ ঢাকা পড়েছে লতা-পাতায়। সংরক্ষণ করা হলে জমিদার বাড়িটি দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে বলে অভিমত স্থানীয়দের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে তিতাসের কড়িকান্দি বাজার। এই বাজার থেকে পশ্চিম দিকে ৫ কিলোমিটার পর কালের সাক্ষী মজিদপুর জমিদার বাড়িটির অবস্থান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিতাসের মজিদপুর গ্রামের জমিদার বাড়িটির মোট ১৭টি ভবনের মধ্যে চারটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাড়ির পাশে একটি দিঘি এবং ছোট-বড় মিলে ২০টি পুকুর রয়েছে। জমিদারদের প্রাসাদসম অট্টালিকাগুলো বিভিন্নজনের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বর্তমানে জমিদারদের কোনো উত্তরাধিকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কামাল হোসেন নামের একজন জানান, এখানে অনেকে ভুয়া দলিল তৈরি করে দখল করেছে। প্রশাসন ঠিকভাবে খোঁজ নিলে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

প্রতিদিন লোকজন জমিদার বাড়িটি দেখতে আসেন। এ এলাকায় কোনো দর্শনীয় স্থান নেই। সংরক্ষণ করা হলে এটি সোনারগাঁও থেকেও সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্রে রুপ নেবে। এতে স্থানীয় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, আমি মজিদপুর জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেছি। কিছু সম্পত্তি দখল হয়ে গেছে, কিছু অংশ পরিত্যক্ত হয়ে আছে। স্থানীয়দের মতামতসহ এ বিষয়ে অধিদপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠাবো।

জানা গেছে, পাকিস্তান সৃষ্টির পরই হিন্দু জমিদাররা তাদের সবকিছু রেখে ভারতে চলে যান। জমিদারি শাসনের শুরুর দিকে মজিদপুর জমিদার বাড়ির প্রথম পুরুষ শ্রী রামলোচন রায় মজিদপুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। মেঘনা, তিতাস, হোমনা ও মুরাদনগর পর্যন্ত তাদের জমিদারি ছিল।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন