শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:৫৬:২৮ এএম

‘জাতীয় দলের বাইরে থাকা অনেক ক্রিকেটারদের ৩ বেলা খাবার খেতেও বেশ কষ্ট হয়’

খেলাধুলা | শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১২:৫৮:০৮ পিএম

একজন ক্রিকেটার আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক চাওয়ায় প্রিমিয়ারে এবারও থাকছে প্লেয়ার্স বাই চয়েজের বিতর্কিত সেই ফর্মুলা। আর এই একজন ক্রিকেটারের কারণেই ভুক্তভোগী সবাই। মূলত তার কারণেই সবার ওপর চেপে বসেছে প্লেয়ার্স বাই চয়েজের বিতর্কিত নিয়ম। যে কারণে তার ওপর বাকিরা ক্ষুব্ধ। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও মুখ গুজে সহ্য করছেন বাকিরা।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের গত আসরে যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছেন, এবার তার চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ (৬০ লাখ) পারিশ্রমিক চেয়ে বসলেন এই ক্রিকেটার। তার এই আকাশচুম্বি পারিশ্রমিক চাওয়ার কারণেই প্লেয়ার্স বাই চয়েজের বিতর্কিত সেই ফর্মুলা এবারও চেপে বসেছে ক্রিকেটারদের ঘাড়ে।

প্লেয়ার্স বাই চয়েজের রেওয়াজ চালুর পর থেকেই ক্রিকেটাররা এনিয়ে নিজেদের অসন্তোষ জানিয়েছেন। ক্রিকেটারদের অসন্তুষ্টির কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল পরের বছর এই নিয়ম তুলে দেয়া হবে।

ক্রিকেটারদের অনেকেই ধরে নিয়েছেন এবার আর প্রিমিয়ারে বিতর্কিত সেই ফর্মুলা থাকছে না। নিজেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবেন। তাদের সেই আশায় গুড়েবালি দিয়েছেন কোন এক ক্রিকেটার। যার কারণে আবারও চেপে বসেছে প্লেয়ার্স বাই চয়েজ।

ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিটন (সিসিডিএম) নতুন চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ জানিয়েছেন, কোন ক্রিকেটার যদি যোগ্যতার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক চায় তাহলে আমারদের কী করার আছে। এমন দু’একজন ক্রিকেটারের জন্যই প্রিমিয়ারে এবারও প্লেয়ার্স বাই চয়েজ থাকছে। যদিও তাতে ক্রিকেটারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তবে আমাদের কিছু করার নেই।

বিসিবির এই পরিচালকের সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার। তার ভাষায়, এই একজন ক্রিকেটারের কারণে আমরা সব খেলোয়াড়রা ভোক্তভুগি। ওর কারণেই সব ক্রিকেটারদের পায়ে শিকল।

কী এমন খেলেছে যে, ওকে ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে। ও কি সত্যিই এত বড় খেলোয়াড়? জাতীয় বা প্রিমিয়ার লিগেও তার পারফরমেন্সও সন্তোষজনক নয়। আপনি যদি ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিকের কথা বলেন, তাহলে মুশফিকুর রহিমের মতো ধারাবাহিক পারফরমার দ্বিতীয়টি খুঁজে পাবেন না। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক সব জায়গায় মুশফিক নিয়মিত রান করে। বিপরীতে ওই ক্রিকেটার কদাচিৎ রান করেন।

এসময়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ওই ক্রিকেটার আরও বলেন, আমরা সাহস পাইনি ৫ লাখের জায়গায় ২৫ লাখ চাইতে। আর ও কী এমন খেলেছে যে ওকে ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে। এই দুই একজন ক্রিকেটারের কারণে আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। প্লেয়ার্স বাই চয়েজ না থাকলে কিছু টাকা বেশি পেতাম। এখন ক্যাটাগরী অনুসারে খেলতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ক্রিকেটার আফসোস করে বলেন, ভাই কিছু প্লেয়ারের কারণে মাঝেমধ্যে মনে হয় খেলাই ছেড়ে দেব। দেখলেন না, একটা ক্রিকেটারের কারণে বিপিএল এক বছর বন্ধ ছিল। সবাইতো আর জাতীয় দলে খেলে না। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো বন্ধ থাকলে জাতীয় দলের বাইরে যারা আছে তাদের তিন বেলা খাওয়াও অনেক সময়কষ্ট হয়ে যায়!

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন