বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৪:৩৮:১০ পিএম

ঢাকা-১৬ আসনে আ.লীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী

রাজনীতি | শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৭:৫৫:১৩ পিএম

ঢাকা ১৬ আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উভয় দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে দুই দলের হেভিওয়েটদের সাথে তরুণদেরও নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত এ আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ থেকে অন্তত ৮ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে বেশ জোরেশোরেই এলাকায় প্রচারণার পাশাপাশি দলের হাইকমান্ডে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

রাজধানীর পল্লবী ও রূপনগর থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসন। সংসদীয় তালিকায় এর অবস্থান ১৮৯ নম্বরে। উত্তর সিটি করপোরেশনে পল্লবীর ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং রূপনগরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনটি।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর মিরপুর পল্লবীর সম্পূর্ণ এলাকাটি ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এক-এগারোর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে বৃহত্তর মিরপুর পল্লবী এলাকার আসনটি ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ তিনটি আসনে ভাগ হয়।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি ফিরে পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই এখানে নির্বাচনি আমেজ শুরু হয়ে গেছে। শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার শোভা পাচ্ছে এলাকাজুড়ে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন মনোনয়ন লড়াইয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবারো এই আসনে মনোনয়ন চাইবেন। এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রীক তার তৎপরতাও লক্ষ করা যায়। তবে তিনি কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তেমন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছেন না। প্রবীণ আইনজীবী ও বিএনপির প্রভাবশালী এ নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে ৪২টি মামলা।

তাই মামলাসহ অন্য কোনো কারণে যদি তিনি এ আসনে নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে তার সহধর্মিণী অধ্যাপক সাহিদা রফিক এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আরো আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি ও কৃষকদলের সহ-সভাপতি আলহাজ এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান ও বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর-উত্তর কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ মাকসুদুল ইসলাম।

জানা গেছে, স্থানীয় হিসেবে মোয়াজ্জেম হোসেন এলাকায় খুব পরিচিত। ১৯৯৩ সালে পল্লবীতে ৩ বিঘারও বেশি জমির ওপর শহীদ জিয়া মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও শহীদ জিয়া গার্লস ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। নির্বাচনি এলাকায় গত কয়েক মাস ধরেই তিনি গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বেশ জোরেশোরে।

মনোনয়ন প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পল্লবী থানা বিএনপির সাথে জড়িত থাকায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। দল আমাকে সুযোগ দিলে ধানের শীষের এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব।

তিনি বলেন, পল্লবী, রূপনগর এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে দফায় দফায় মিটিং করে গণসংযোগ করে যাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে দল ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচিতে তার সক্রিয়তা রয়েছে।

মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। মামলার কারণে এলাকায় গিয়ে সবসময় দলীয় কর্মসূচি পালন করতে না পারলেও নেতা-কর্মীদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
সাভারের মুশুরীখোলায় নিজ বাড়িতে ও রাজধানীর উত্তরা, বারিধারা, বসুন্ধরা এবং নয়াপল্টনের ভাসানী ভবনে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সভা করে এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি।

আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি এ আসনে নির্বাচন করতে চান। দলের নেতা-কর্মীরাও তার সাথে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ আসনে নির্বাচনি লড়াইয়ে ইতোমধ্যেই অংশ নিয়েছেন এক সময়ের দেশসেরা ফুটবলার জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এ ফুটবলার, বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক বলেন, আমার শৈশব-কৈশোর এমনকি যৌবন সবই কেটেছে পল্লবী এলাকায়। আমি এখান থেকে জাতীয় দলের ফুটবলার হয়েছি। তাই এ আসন নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আসনটি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

ঢাকা মহানগর-উত্তর কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ মাকসুদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি। নেত্রী যদি আমাকে নির্বাচন করতে বলেন আমি নির্বাচন করবো। কিন্তু নেত্রী ও দল যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমি সেই অনুযায়ী কাজ করবো।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন