শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:৫২:৪৫ এএম

বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পুরো দলই!

খেলাধুলা | শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ০৯:০৯:০২ পিএম

চার বছর আগে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ দল হিসেবেই মাঠে নামবে ব্রাজিল। তবে ইউরোপীয়ান পরাশক্তিদের ভিড়ে সেলেসাওরা নিজেদের কতটা এগিয়ে নিতে পারে তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

ব্রাজিলের মাটিতে স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ব্রাজিলকে কেবল সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় করেনি জার্মানী, ফাইনালে শিরোপা ঘরে তুলে আজেন্টাইনদেরও হতাশ করেছিল। বড় আসরে বরাবরই স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা জার্মানরা চলতি বছর রাশিয়ায় কনফেডারেশন্সক কাপ জয় করে নিজেদের আবারো প্রমাণ করেছে। রাশিয়ায় সাম্প্রতীক এই সাফল্য ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পরে প্রথম দল হিসেবে জার্মানদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে বিভোর করে তুলেছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে জার্মান দলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সাবেক স্ট্রাইকার অলিভার বিয়েরহফ বলেছেন, ‘ফাইনালের আগ পর্যন্ত আমরা পুরো টুর্নামেন্টে কিভাকে নিজেদের এগিয়ে নিব সে ব্যাপারে এখন থেকেই প্রস্তত হচ্ছি। আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে আবারো বিশ্বকাপের শিরোপা নিয়ে ঘরে ফেরা।’

এবারের আসরে শিরোপা জিততে পারলে তা হবে জার্মানদের পঞ্চম শিরোপা। আর সে কারণেই জার্মান খেলোয়াড়দের জন্য মোটা অঙ্কের বোনাসও ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ঠ ফেডারেশরন। এটা শুধুমাত্র দেশের সম্মানই নয়, এখানে খেলোয়াড়দের প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারও অনেকাংশেই নির্ভর করছে। শিরোপা ধরে রাখতে পারলে তাই দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য সাড়ে তিন লাখ ইউরোর ঘোষণা এসেছে।

পঞ্চমবারের মত শিরোপা ঘরে তুলতে পারলে বিশ্বকাপ অর্জনের দিক থেকে তা হবে ব্রাজিলিয়ানের সমান। কিন্তু ব্রাজিলের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল জার্মানদের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পরে নিজেদের নতুনভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। নতুন কোচ তিতের অধীনে নিজেদের লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেকটা সফলও হয়েছে ব্রাজিল। তাইতো এবারের ব্রাজিল দলটিকে নিয়ে অনেকেই আশার আলো দেখছে। বিশেষ করে নেইমারের নেতৃত্বে তরুণ দলটি যখন রিও গেমসে ফাইনালে জার্মানীকে পেনাল্টিতে পরাজিত করে প্রথমবারের মত স্বর্ণ জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল তখন অনেকেই একে প্রতিশোধের চেয়ে সেলেসাওদের ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

এরপরই তিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। আর তার অধীনে এখন পর্যন্ত ব্রাজিল কোনো প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরাজিত হয়নি। ১২ ম্যাচে তিতে ব্রাজিলকে ১০টি জয় ও দুটি ড্র উপহার দিয়েছেন।

ফিফাডটকম’এ নেইমার বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের পরে গত তিন থেকে চার বছর আগে দলের প্রতি খেলোয়াড়দের যা শ্রদ্ধা ছিল তা একেবারেই পরিবর্তন হয়ে গেছে। সবাই আমাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে।’

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তিতে শুধুমাত্র দলের মধ্যে জয়ের মানসিকতাই ফিরিয়ে আনেনি, হলুদ জার্সিধারীদের প্রথাগত ‘জোগা বোনিতো’ এ্যাটাকিং স্টাইলও ফিরিয়ে এনেছেন। সাম্প্রতীক সময়ে দুঙ্গা, লুইস ফিলিপ স্কলারির অধীনে যা একেবারেই হারিয়ে গিয়েছিল। নেইমারও এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হয়েই বলেছেন, যে ব্রাজিলকে সবাই পছন্দ করতো সেই ধারা দলে আবারো ফিরে এসেছে। এই দলটি ফুটবলকে উপভোগ করতে শিখেছে। সমর্থক ও দেশের ফুটবল মানসিকতাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিশ্বকাপের আগে সবাই আত্মবিশ্বাসী ও খুশি। এটা কোনো মূল্য দিয়ে কেনা যায় না।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ই-গ্রুপ থেকে নেইমারের ব্রাজিল মোকাবেলা করবে সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও কোস্টারিকার।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনেই বিগ ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন। যদিও স্প্যানিশ ফুটবলে সাম্প্রতীক কিছু ঘটনায় রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে স্পেনকে বাদ দেয়ার একটি গুজব শোনা যাচ্ছে। স্প্যানিশ ফেডারেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে সরকারী হস্তক্ষেপের জেরে রাশিয়া থেকে স্পেনকে বাদ দেয়ার হুমকি দেয় ফিফা। সভাপতি অ্যাঞ্জেল মারিয়া ভিলার দুর্নীতির দায়ে পদ থেকে সড়ে দাঁড়াতে বাধ্য হলে সভাপতি পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। যদিও এসব নিয়ে মোটেই চিন্তিত নয় স্প্যানিশরা।

অধিনায়ক সার্জিও রামোস বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না মাঠে আমরা যা অর্জন করেছি তার থেকে স্পেনকে বঞ্চিত করা হবে।’

গ্রুপ-বি’তে মরক্কো, ইরান ও পর্তুগালকে পিছনে ফেলে নক আউট পর্বে যাবার জন্য দুইবারের ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নরাই যে ফেবারিট তা স্পেন ইতোমধ্যেই নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই প্রমাণ করেছে।

তবে অন্যান্য দলগুলোর তুলনায় কাগজে কলমে আর্জেন্টিনাকে যে গ্রুপ পর্বে শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। গ্রুপ-ডি’ থেকে তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হলে ইউরো ২০১৬ এর বিস্ময়কর দল আইসল্যান্ড, রিয়াল মাদ্রিদের তারকা লুকা মোদ্রিচের ক্রোয়েশিয়া ও আফ্রিকান জায়ান্ট নাইজেরিয়াকে পিছনে ফেলতে হবে।

বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে রাশিয়ার টিকিট উপহার দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। যদিও পাঁচবারের বর্ষসেরা খেলোয়াড় মেসি বলেছেন, ইকুয়েডরের ম্যাচটির সাথে সাথে আমরা বাছাইপর্ব পিছনে ফেলে এসেছি, এখন পুরো দলই বদলে গেছে। ওই ম্যাচে সব ভয় ও টেনশন শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্যই নিজেদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

আলবিসেলেস্তেদের হয়ে মাত্র চারটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন নতুন কোচ জর্জ সাম্পাওলি। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন বিশ্বকাপে নিজের ফর্ম দিয়েই ঋণ শোধ করার একটি সুযোগ এসেছে মেসির সামনে। মেসি নিজেও সেটাই বিশ্বাস করেন। সাম্পাওলি নিজেও মেসিকে এই কথা জানিয়েছেন বলে এই সুপারস্টার স্বীকার করেছেন।

বদলে গেছে আর্জেন্টিনার পুরো দলই! অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে অসম্ভব প্রতিভাসম্পন্ন ফ্রেঞ্চ দলে রয়েছেন পল পগবা, এন্টোনিও গ্রিজম্যান ও কাইলিয়ান এমবাপ্পের মত তারকারা। যদিও গ্রুপে পেরু, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়াকে পিছনে ফেলে ফ্রান্সের সামনে এগিয়ে যাওয়া যে মোটেই সহজ হবে না তা দলগুলোর সাম্প্রতীক পারফমেন্সেই প্রমাণ।

এদিকে বেলজিয়ামের স্বর্ণযুগের দলটির সামনে সুযোগ এসেছে গ্রুপ-এইচ থেকে ইংল্যান্ড, তিউনিশিয়া ও টুর্নামেন্টের নতুন দল পানামাকে পিছনে ফেলার। তারকা সমৃদ্ধ দলটির খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নিজেদের কতটুকু প্রমাণ করতে পারে সেদিকে তাকিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।

স্বাগতিক রাশিয়া টুর্নামেন্টের সবচেয়ে নিচু র‌্যাঙ্কিংয়ের দল হিসেবে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরব, উরুগুয়ে ও মিসরের বিপক্ষে গ্রুপের ম্যাচগুলোতে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েই শেষ ১৬’তে যেতে চায় রাশিয়া। মস্কোর লুজিনকি স্টেডিয়ামে আগামী ১৪ জুন সৌদি আরবের সাথে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের সূচনা করবে স্বাগতিকরা। ১৫ জুলাই লুজিনকিতে ফাইনাল ম্যাচটি ফিরে আসার আগে ১১টি শহরের ১২টি ভেন্যুতে সর্বমোট ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন