শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ০৬:৩৩:৪৮ এএম

নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে

জাতীয় | সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০১৮ | ১২:৪৮:০৭ পিএম

সোমবার সকালে বাণিজ্য মেলার ২৩তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এটা ইংরেজি নববর্ষ। সবাইকে হ্যাপি নিউ ইয়ার জানাই। নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আশা করি, নতুন বছর উন্নয়ন ও প্রগতি নিয়ে আসবে। প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা বাড়াতে হবে। বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল। বাংলাদেশ এখন তাদের কাছে বিস্ময়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা ৩৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পেরেছি। তবে রপ্তানি আরো বাড়াতে আমাদের নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন করতে হবে। বিশ্বের কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। এরপর পণ্যের মান নিশ্চিত করত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের তাদের কাছে বিস্ময়। ২০৫০ সালে পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে। এখন কারো কাছে হাত পেতে চলে না। এখন উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য জাতির পিতার সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে বাণিজ্যিকভাবে উন্নয়ন করতে কাজ করছি। পাশাপাশি নতুন পণ্য উৎপাদন ও এসব পণ্যের গুণগত মান যাতে বজায় থাকে সে দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলবো না। দেশ গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়তে নয়। প্রধানমন্ত্রিত্ব অল্প সময়ের, এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য কতটুকু গড়তে পারি সেটাই লক্ষ্য। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নাগরিক যাতে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুভাশীষ বসু এবং ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বক্তব্য দেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রপ্তানিকারক এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা বাণিজ্যমেলা চলবে। প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।

এবারের মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫৮৯টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি বড় ও ৭৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন।

থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবারের মেলায়।

২০২০ সাল থেকে পূর্বাচলে স্থায়ী ভেন্যুতে বাণিজ্য মেলা হওয়ার কথা রয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন