সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ ০৫:০৫:১৯ এএম

পাবনায় ছাত্রদল-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৩৫, আটক ২৬

জেলার খবর | পাবনা | সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০১৮ | ১০:১৮:৩২ পিএম

পাবনায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালিতে বাধা দিলে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে শহীদ আমিন উদ্দিন সড়কে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এতে নয় পুলিশ সদস্যসহ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা ও কৃষক দল নেতা আবুল কাশেমসহ ছাত্রদল ও বিএনপির অন্তত ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আহতদের একজনকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা ও অপর একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এঘটনার শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছাত্রদলের দাবি, র‌্যালির জন্য তারা চারদিন আগে অনুমতি নেয়।

এবিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র‌্যালি বের করার চেষ্টা করলে অনুমতি না থাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় তারা অতর্কিতে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সাত রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও ৪১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে।

এ সময় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকসহ নয় পুলিশ আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনকে আটক করেছে।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশাল আনন্দ র‌্যালি বের করার প্রস্ততি নেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড র‌্যালি নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সমবেত হন।

এক পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ র‌্যালি বের করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হলে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে পুলিশ অতর্কিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর লাঠির্চাজ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং শটগানের গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এসময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মহূর্তের মধ্যে শহীদ আমিন উদ্দিন সড়ক জনশূন্য হয়ে পড়ে। বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বেশ কয়েকজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা, কৃষক দলনেতা আবুল কাশেম গুলিবিদ্ধ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান জাফির তুহিনকে মাথায় গুরুতর আঘাত অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবুল কাশেমকে রাজশাহী ও হেলিকপ্টার করে এগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) মহাসচিব কৃষিবিদ হাসন জাফির তুহিনকে হেলিকপ্টারে ঢাকা পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এঘটনায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি হিমেল রানা, দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ অন্তত ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিএনপি দাবি করেছে।

আহত পুলিশ সদস্য ও নেতাকর্মীদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিমেল রানা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করেছে।

তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে গত ৪ দিন আগে পুলিশ সুপারের কাছে এই কর্মসূচির কথা জানিয়ে আবেদন করা হয় এবং অনুলিপি পাবনা সদর থানাতেও দেওয়া হয়।

সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও বুলেট নিক্ষেপ করে।

তিনি জানান, ৪১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও সাত রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৬ নেতাকর্মীকে আটক করে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন