বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০২:৫৮:৫৬ পিএম

জঙ্গি সম্পৃক্তার অভিযোগে নিষিদ্ধ হচ্ছে ১২ সংগঠন

আন্তর্জাতিক | মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮ | ১২:৪৩:১৫ পিএম

দেশে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে শিগগিরই নিষিদ্ধ হচ্ছে ১২টি সংগঠন। সংগঠনগুলোর অন্যতম_ আল্লাহর দল, ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, তামীরউদ্দীন বাংলাদেশ, তৌহিদী ট্রাস্ট, হিজবুত তাওহিদ, শাহাদত-ই-নবুয়ত ও জামাত-আস-সাদাত। এসব সংগঠন নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থাকেও নিষিদ্ধ ঘোষণার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তথ্য-উপাত্তসহ গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সশস্ত্র সংগ্রাম, বিভিন্ন স্থানে হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার পর গত ২৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং প্রতিকার সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে ১২টি সংগঠনকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ফাইল ফিরলেই ১২টি সংগঠন নিষিদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। এর আগে আরও ৬টি জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ করে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ১২টি সংগঠন নিষিদ্ধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তের সার সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এখন শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সূত্র বলছে, ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের বিষয়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক দল সে কারণে বিষয়টি নিয়ে তারা এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুগান্তরকে জানান। গত কয়েক বছর ধরে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ আছে প্রায় ৪০টি সংগঠনের বিরুদ্ধে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ওই সংগঠনগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এদের যারা অর্থ ও অস্ত্র জোগান দিচ্ছে, সেই নেপথ্যের কারিগরদের ব্যাপারেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ পর্যন্ত ৪০টির মধ্যে ১২টি সংগঠনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা যায়, জঙ্গিবাদ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও নজরদারি করতে ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং প্রতিকার সংক্রান্ত ওই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও শিক্ষা, আইন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়। এছাড়া কমিটিতে পুলিশ, ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক, র‌্যাব প্রধান, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকেও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালের জুনে এক বৈঠকে দেশে জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে- এমন কয়েকটি সংগঠনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য দুটি গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশের পর কয়েক বছর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সারা দেশে কমবেশি তৎপর রয়েছে এমন ৪০টি সংগঠনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে।

এগুলো হচ্ছে- জামিউতুল ফালাহ, ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, মিয়ানমার লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা ইনডিপেনডেন্স পার্টি, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট, মুসলিম মিল্লাত, আল হারাত-আল-ইসলামিয়া, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট, তৌহিদী জনতা, জুমাদআতুল আল সাদাত, তামিরউদ্দীন দ্বীন বাংলাদেশ, আল খিদমত, হিজবুল মাহদি, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, দাওয়াতি কাফেলা, বাংলাদেশ এন্টি টেরোরিস্ট পার্টি, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল ইসলাম মার্টেনস ব্রিগেড, সত্যবাদ, মুসলিম মিল্লাত, শরিয়া কাউন্সিল, জমিয়ত আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ, তাজির বাংলাদেশ, হায়াতুর ইলাহা, ফোরকান মুভমেন্ট, জামিউতুল এহজিয়া এরতাজ, আনজুমানে তালামিজ ইসলামিয়া, কলেমার জামাত, সাহাবা পরিষদ, কাতেল বাহিনী, মুজাহিদিন-ই-তাজিম, এশার বাহিনী, আল ফাহাদ, হরকাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (হুজিবি) ও জাদিদ আল কায়দা। সূত্র জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ২৫ মে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দেশে জঙ্গি তৎপরতার প্রমাণ মেলায় ২০০৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রথম শাহাদাত-ই-আল হিকমা নামের একটি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর ২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশকে (জেএমজেবি) এবং ওই বছরের ১৭ অক্টোবর হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশকে (হুজিবি) নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হিজবুত তাহরিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন