শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ ০৩:২০:৩৫ পিএম

হবু মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত গাড়ি

রাজনীতি | মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৩:৫৯:২১ পিএম

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাওয়া নতুন সদস্যদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদফতর। মন্ত্রিসভায় তিনজন যুক্ত হওয়ার কথা শোনা গেলেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে ছয়টি গাড়ি।

সোমবার (১ জানুয়ারি) বিকেলেই অধিদফতরের অধীন পরিবহন পুলের ওয়ার্কশপে ৬টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়।

মন্ত্রিসভায় নতুন তিনজন যোগ হওয়ার কথা থাকলেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে অতিরিক্ত গাড়ি।

সরকারের মন্ত্রিসভার রদবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন চার মন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য ডাক পেয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী।

এছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বারও ডাক পেয়েছেন বঙ্গভবনে। টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া, বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ পাওয়া চার জন জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাদের ফোন করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকার কথা বলেছেন।

জানা গেছে, সরকারের গতিশীলতা বাড়ানো ও প্রশাসনিক কর্ম-তৎপরতা বাড়াতে মন্ত্রিসভা রদবলের দিকে ঝুঁকেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে নতুন চার জনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মুহাম্মদ ছায়েদুল হকের মৃত্যুর পর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী পদটি শূন্য রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এই পদে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন মঙ্গলবার। তবে বাকি তিন জনের কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা শপথ গ্রহণের আগে বলা যাচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের ফোন পাওয়ার খবর নিশ্চিত করে সোমবার নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে আমাকে ফোন করেছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাকে বঙ্গভবনে যেতে বলেছেন।’

অবশ্য বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে বলার কারণ মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাকে জানাননি বলেও জানান তিনি। যদিও প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার খবরটি তিনি নিজেও আন্দাজ করছেন। এই দায়িত্ব পেলে তা তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই অবস্থানের জন্য এলাকার জনসাধারণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে একজন শিক্ষক থেকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। আমি ৩৯ বছর শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে এসেছি। সত্যিই যদি আমি কাল (মঙ্গলবার) পূর্ণ মন্ত্রী হই, তাহলে তা হবে আমার রাজনৈতিক জীবনে পাওয়া সবচেয়ে বড় উপহার।’

জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিজিটাল মেলায় দেখা হয়েছিল। তিনি আমাকে বলেছিলেন, আপনাকে বড় দায়িত্ব দেওয়া দরকার। এর বাইরে আর কিছু বলব না।’

বঙ্গভবনে ডাক পেয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মুখ বন্ধ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগাযোগ করুন।’ তবে বঙ্গভবনে ডাক পাওয়ার খবর স্বীকার করেছেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল।

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ফোন আমি পেয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে যাচ্ছি।’ অন্যদিকে, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী কেবল বঙ্গভবনে ডাক পাওয়া নয়, মন্ত্রী হওয়ার খবরটিও সরাসরিই স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হবো, তা দু’দিন আগে থেকেই জানি। আজ (সোমবার) কেবিনেট ডিভিশন থেকে ফোন পেয়েছি। আমি আমার এলাকাতেই ছিলাম। ফোন পেয়ে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছি।’

মন্ত্রিসভায় রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দলের সিনিয়র, ত্যাগী ও বেশ কয়েকজন তৃণমূলের পরিচ্ছন্ন নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণমন্ত্রীসহ কমপক্ষে ছয় জন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বর্তমান মন্ত্রিসভায় রয়েছেন, এমন দু’জন প্রতিমন্ত্রীকে পূর্ণমন্ত্রী করা হবে। এছাড়া, তথ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৯ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ ৩১ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী ও দুই জন রয়েছেন উপমন্ত্রী। এছাড়া, মন্ত্রীর পদমর্যাদায় রয়েছেন পাঁচ উপদেষ্টা ও একজন বিশেষ দূত। এর আগে, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকার গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই একদফা মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়। এরপর দুয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন করা ছাড়া মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। এ বছরই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে জাতীয় নির্বাচন। সেটাকে সামনে রেখেই মন্ত্রিসভায় আসতে যাচ্ছে রদবদল।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন