মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৯:৪২:৩৮ এএম

এনবিআর চেয়ারম্যানের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর পরিদর্শন

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৯:২১:২২ পিএম

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাহসিকতা ও সততার সাথে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের এ আহ্বান জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে চেয়ারম্যানকে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কার্যক্রমসহ অন্যান্য বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এ দপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।

এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসনের সদস্য মো. রেজাউল হাসান।

উপস্থাপনায় শুল্ক গোয়েন্দার সাম্প্রতিক সাফল্যের পরিসংখ্যান চিত্র তুলে ধরা হয়। গত কয়েক বছরে শুল্ক গোয়েন্দার কর্মতৎপরতার সচিত্র বর্ণনা বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৭ সালে স্বর্ণ, মুদ্রা, মাদক, সিগারেট, অস্ত্র, বিলাসবহুল গাড়ি আটকের রেকর্ড অত্যন্ত দৃশ্যমান ছিল। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে আরো কঠোর হতে তৎপরতা বৃদ্ধি করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

উপস্থাপনার পরে শুল্ক গোয়েন্দার কার্যক্রমের ওপরে নির্মিত ‘গোয়েন্দার চোখ’ শিরোনামে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

পরিদর্শন পরবর্তী বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান দপ্তরের শুল্ক গোয়েন্দাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো কাস্টমস দপ্তরে এটি তার প্রথম পরিদর্শন।

এসময় তিনি বলেন, এই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ যে ধরনের সাহসিকতা, সততা এবং দেশপ্রেমের সাথে তাদের ওপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তা প্রশংসার দাবিদার।

তিনি এই দপ্তরে কর্মরত সকলকে সব ধরনের লোভ ও ভয়-ভীতির উর্ধ্বে থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া আরো বলেন শুল্ক গোয়েন্দারা ভালো কাজ করলে দেশ অপূরণীয় ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। তিনি ভালো কাজের উপযুক্ত স্বীকৃতি দিবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক পরিচালিত বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিবরণ শুনে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় কোন অভিযান পরিচালনার সময় নিজেই উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন শুল্ক গোয়েন্দারা সীমিত সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করছে। এই দপ্তরের জনবল বৃদ্ধি, রেশনিং ও ঝুঁকি ভাতাসহ অন্যান্য চাহিদার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে তিনি এগুলো সমাধানের ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে আলোচনা করবেন বলেও জানান।

চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে সকলকে নিজ পেশার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক নিজ অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকার প্রতি আহ্বান করেন। এছাড়াও তিনি সকল বিষয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনার ব্যাপারেও গুরুত্ব প্রদান করেন।

টিমওয়ার্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভক্তির মাধ্যমেই কোন একটি দপ্তর সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় আরোহন করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি শুল্ক গোয়েন্দাকে অন্যান্য সংস্থার সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করতেও পরামর্শ দেন।

সভা শেষে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এই দপ্তরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের চলমান কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন