সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ০৪:০৪:২৬ পিএম

যশোর রোডে শতবর্ষী গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা

আইন আদালত | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ | ০১:৩৪:৪৮ পিএম

যশোর-বেনাপোল সড়কের শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ছয় মাসের স্থিতিঅবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এরফলে গাছগুলো আর কাটা যাবে না।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবির লিটনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

গত রোববার যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়ে সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন বেসরকারি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মো. মহিবুল্লাহ। পরে গাছ কাটা বন্ধে রিট আবেদন করেন এ শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার এ রিটের পক্ষে শুনানি শেষে রুলসহ আদেশ জারি করেন আদালত। এ সময় শিক্ষক মহিবুল্লাহর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি বলেন, যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ছয় মাসের স্থিতি অবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এরফলে এ গাছগুলো আর কাটা যাবে না বলে জানান এ আইনজীবী।

তিনি জানান, স্থিতিঅবস্থার পাশাপাশি আদালত রুলও জারি করেছেন। রুলে শতবর্ষী গাছগুলো কাটা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং গাছগুলো সংরক্ষণ করে কেন চার লেনের সড়ক তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শিক্ষক মহিবুল্লার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের পাঠানো আইনি নোটিশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এতে সড়ক ও জনপথ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, খুলনার ডিসি ও যশোরের পুলিশ সুপারকে আগামী সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।
ওই সময় আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, যশোর-বেনাপোল সড়কের দুই হাজারের বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ গাছগুলো দেশের ঐতিহ্য। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তা ছাড়া গাছ কাটার সিদ্ধান্ত সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

উল্লেখ্য, যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সড়ক বিভাগ এরই মধ্যে দরপত্রও আহ্বান করেছে।

গত ৬ জানুয়ারি এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ সভায় সড়ক চওড়া করতে দুই ধারের গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সরকারের এ সিদ্ধান্তে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা করছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, গাছ না কেটেও সড়ক চওড়া করা সম্ভব।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গাছ রেখে সড়ক চওড়া করতে হলে সড়কের পাশে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বন্দর এলাকায় জমির দাম বেশি বলে সড়ক নির্মাণের খরচ বেড়ে যাবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন