বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ১০:২৯:০০ পিএম

যশোর রোডের গাছ কাটা যাবে না: হাইকোর্ট

আইন আদালত | বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৭:২০:২১ পিএম

ঐতিহাসিক যশোর রোডের শতবর্ষী গাছগুলো আগামী ছয় মাস অন্তত কাটা যাবে না৷ হাইকোর্ট এ বিষয়ে ছয় মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছে৷

হিউম্যান রাইটসঅ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত৷ প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়৷

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই স্থিতাবস্থা জারির ফলে এখন এই গাছ কাটা যাবে না৷

জানুয়ারির শুরুতে যশোর জেলা প্রশাসনের এক বৈঠকে যশোর রোড হিসেবে পরিচিত বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে যশোর পর্যন্ত সড়কের সম্প্রসারণে দুই পাশের কয়েক হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়৷ এরপর থেকেই সারা দেশে প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে৷

পরিবেশবাদীরা সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানান৷ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে৷ প্রতিবাদকারীরা যুক্তি দেখান যে, শতবর্ষী গাছগুলো ডিভাইডার হিসেবে রেখে রাস্তা সম্প্রসারণ সম্ভব৷

এছাড়া এই গাছগুলো ও এই সড়কের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও জড়িত৷ মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখ লাখ বাংলাদেশি এই সড়ক ধরে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন৷

সড়ক বিভাগ যে যুক্তি দেখিয়েছে তা হলো, এই গাছ রেখে রাস্তা সম্প্রসারণ করলে প্রকল্প খরচ বেড়ে যাবে৷ তাছাড়া পণ্য পরিবহনের জন্য এই সড়কের গুরুত্ব বেড়ে গেছে৷

আপাতত জমি অধিগ্রহণ করে গাছ রেখে রাস্তা সম্প্রসারণ করা গেলেও ভবিষ্যতে চার লেন বা ছয় লেন করা হলে এই গাছগুলো কোনোভাবেই রাখা যাবে না৷

তবে তাদের এই যুক্তি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না পরিবেশবিদ ও পরিবেশবাদীরা৷

এর আগে এই গাছ না কাটার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন প্রশাসনকে৷ সেখানে যশোর রোডের ভারতীয় অংশে গাছ না কাটার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরা হয়৷

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যশোর রোড বলতে দমদম থেকে বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত পর্যন্ত মহাসড়ককে বোঝায়৷ ওই সড়কের দৈর্ঘ্য ১০৮ কিলোমিটার (কি.মি.)৷ যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশে এর দৈর্ঘ্য ৩৮ কি.মি.৷ ভারতের পেট্রাপোল থেকে কলকাতার দমদম পর্যন্ত ৭০ কি.মি.৷

এর আগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ও টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন যে, ‘‘যশোর রোডের বাংলাদেশ ও ভারত অংশের গাছগুলো আচ্ছাদন দেয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘লিফ এরিয়া ইনডেক্স’ বলা হয়ে থাকে৷ এই যে বৃক্ষ আচ্ছাদন, তা সুন্দরবনের চার ভাগের এক ভাগ৷ গাছগুলো লম্বা সারিতে থাকায় অনেকের সেটি ধারণাতেই নেই৷’’

-ডয়চেভেলে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন