বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৪:১৫:৪৬ পিএম

পর্দার বিধান মেনে একজন পুরুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবেন নারী?

ধর্ম | শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০১৮ | ১২:০০:৩২ পিএম

প্রতীকী ছবি

ইসলামে সবার ওপরই পর্দার বিধান ফরজ করা হয়েছে। এ কারণে সবারই প্রয়োজন পর্দা করা। পর্দা নিয়ে প্রায়ই উচ্চারিত একটি কথা হলো, পর্দা করা একজন নারী কি অপরিচিত কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, কিংবা উচ্চস্বরে কথা বলতে পারবেন? এই বিষয়ে ইসলাম কী বলে?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘হে নবীর স্ত্রীগণ, তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করে থাকো, তাহলে মিহি স্বরে কথা বলো না, যাতে মানুষ গলদে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি প্রলুব্ধ হয়ে পড়ে, বরং পরিষ্কার সোজা ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলো। (সূরা-আহযাব, আয়াত-৩২)

বিধান হচ্ছে, প্রয়োজন হলে একজন নারী কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে। কিন্তু এ সময় নারীর কথা বলার ভঙ্গির ধরন এমন হতে হবে যাতে আলাপকারী পুরুষের মনে কখনো এ ধরনের কোনো চিন্তার উদয় না হয় যে, এ নারীটির ব্যাপারে অন্য কিছু আশা করা যেতে পারে। তার বলার ভঙ্গিতে কোনো নমনীয়তা থাকবে না, তার কথায় কোনো মনমাতানো ভাব থাকবে না। সে সজ্ঞানে তার স্বরে মাধুর্য সৃষ্টি করবে না, যা শ্রবণকারী পুরুষের আবেগকে উদ্বেলিত করে তাকে সামনে পা বাড়াবার প্ররোচনা দেবে ও সাহস যোগাবে।

এ ধরনের কথাবার্তা সম্পর্কে আল্লাহ পরিষ্কার বলেন, এমন কোনো নারীর পক্ষে এটা শোভনীয় নয়, যার মনে আল্লাহ ভীতি ও অসৎকাজ থেকে দূরে থাকার প্রবণতা রয়েছে।

অন্য একটি আয়াতে আল্লাহপাক আরো ইরশাদ করেছেন, ‘আর যখন সে মাদয়ানের কুয়ার কাছে পৌঁছুল, সে দেখলো, অনেক লোক তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের থেকে আলাদা হয়ে একদিকে দুটি মেয়ে নিজেদের পশুগুলো আগলে রাখছে। মুসা মেয়ে দুটিকে জিজ্ঞেস করলো, তোমাদের সমস্যা কি? তারা বললো, আমরা আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাতে পারি না যতক্ষণ না এ রাখালেরা তাদের জানোয়ারগুলো সরিয়ে নিয়ে যায়, আর আমাদের পিতা একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি।’ (সূরা-আল কাসাস, আয়াত-২৩)

একটি বিষয় হচ্ছে যে, ইসলাম নারীকে ভিন্ন পুরুষের সঙ্গে কোমল স্বরে কথা বলার অনুমতি দেয় না এবং পুরুষদের সঙ্গে অপ্রয়োজনে কথা বলতে তাদের নিষেধ করে। সুতরাং একজন নারী কখনো নারীর মঞ্চে এসে নাচগান করা, বাজনা বাজানো ও রঙ্গরস করা পছন্দ করতে পারে না। সে টেলিভিশনে নারীদের প্রেমের গান গেয়ে এবং সুমিষ্ট স্বরে অশ্লীল রচনা শুনিয়ে লোকদের আবেগকে উত্তেজিতও করতে পারে না।

আসলে দুঃখ-আনন্দ, দারিদ্র্য-ধনাঢ্যতা, জয়-পরাজয়, শক্তিমত্তা-দুর্বলতা, সুস্থতা-রুগ্নতার মতো সব অবস্থায় মানুষকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, ভালো অবস্থায় মানুষ অহংকারী, জালেম, আল্লাহ বিস্মৃত ও প্রবৃত্তির দাস হয়ে যায় কি না। খারাপ অবস্থায় হিম্মত ও সাহস কমে যাওয়ায় নিম্নমানের ও অবমাননাকর পদ্ধতি এবং অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বসে কি না। কাজেই কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির এ রকমারি অবস্থা বোঝার ব্যাপারে ভুল করা উচিত নয়। সে যে অবস্থারই সম্মুখীন হোক, তাকে অবশ্যই পরীক্ষার এ দিকটি সামনে রাখতে হবে এবং সাফল্যের সঙ্গে একে অতিক্রম করতে হবে।

নারীরা একজন পুরুষের জন্য বড় একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র। সুতরাং একজন নারীর বিষয়ে পুরুষকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ইসলামের সব বিধান মেনে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।-প্রিয়

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন