সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৫:০৭:৫১ পিএম

নাসির–সাব্বিরের সমস্যা কোথায়?

খেলাধুলা | শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৭:৫৮:১৫ পিএম

টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে দলের স্কোরটা বড় করার দায়িত্ব তাঁদের। একজন নামেন ছয়ে, আরেকজন সাত-আটে। লোয়ার মিডল অর্ডার সামলানোর দায়িত্বটা কি ঠিকঠাক পালন করতে পারছেন নাসির হোসেন-সাব্বির রহমান?

ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং করতে হয়নি। পরের তিন ম্যাচে নাসিরের রান—০, ২, ৩। তাঁর রানের লেখ চিত্রটা একটু একটু করে ওপরে উঠছে। একটু বেশিই ধীর গতিতে! অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুই ম্যাচে করেছিলেন ১৪ রান। গত জুনের পর ৬ ওয়ানডেতে ৩.৮০ গড়ে নাসিরের রান ১৯।
চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সময় জাতীয় দলের দরজাটা প্রশস্ত ছিল না নাসিরের জন্য। যাওয়া-আসার মধ্যেই ছিলেন গত দুটি বছর। কিন্তু ছবিটা বদলেছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিয়মিত একাদশে থাকছেন। একাদশে থাকার নিশ্চয়তা যাঁর থাকছে, নির্ভার ব্যাটিং তাঁর কাছে আশা করা যেতেই পারে। কিন্তু নাসির কেন যেন চাপটা নিতে পারছেন না।

চাপ নিতে পারছেন না সাব্বিরও। তাঁর ব্যাটও কথা বলছে না অনেক দিন। শৃঙ্খলাজনিত নানা ঘটনায় বারবার শাস্তি পাওয়া সাব্বির সব বিতর্ক পেছনে ফেলতে পারতেন দুর্দান্ত ব্যাটিং করে। কিন্তু এ সিরিজে এখনো তাঁর কাছ থেকে উজ্জ্বল ইনিংস দেখা যায়নি। ৪ ম্যাচে ২০ গড়ে তাঁর রান ৪০। সাব্বির ছন্দে নেই জুনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকেই। গত সাত মাসে ১১ ওয়ানডেতে ১৯.৩৩ গড়ে তাঁর রান ১৭৪। সর্বোচ্চ ৩৯।

এটা ঠিক, দলের টপ অর্ডারের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যান ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার পরই ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয় তাঁদের। কিন্তু চাপটা নিতে পারেন বলেই তো লোয়ার মিডল অর্ডার সামলানোর দায়িত্ব পড়ে সাব্বির-নাসিরের ওপর। তাঁরা ব্যর্থ হলেই দ্রুত লেজ বেরিয়ে পড়ে, যেটি দেখা গেল নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোনোভাবে পার পেলেও আজ বাংলাদেশকে বড় মূল্যই দিতে হয়েছে।

ব্যাটিংয়ে নাসির-সাব্বির কেন ধারাবাহিক ব্যর্থ? সমস্যাটা কি তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক? নাকি সমস্যাটা টেম্পারমেন্টে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না দুজন! দুই সতীর্থের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও, ‘হতে পারে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপ হয়তো তারা নিতে পারছে কি না, আরেকটা হচ্ছে টেম্পারামেন্ট। তারা দ্রুত রান তুলতে পছন্দ করে। উইকেটে সময় কাটানোর চেয়ে রান দ্রুত এলে তারা থিতু হয়ে যেতে পারে।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যদি দেখেন তিন-চার উইকেট পড়ার পরও ওদের স্ট্রাইকরেট ১০০ থাকে। ওয়ানডেতে কখনো কখনো উইকেট পড়ে গেলে অল্প সময়ে জন্য উইকেটে সেট হয়ে রান করার অভ্যাসটা সহজাতভাবে আমাদের একটু কম আছে। একটা ঘাটতি থাকতে পারে। আমার মনে হয় ওরা নিজেরাও খারাপ অনুভব করছে। আমি চাই ফাইনালের আগে এটা নিয়ে তারা চিন্তা করুক।’

সেটি করলেই ভালো। শুধু ভাবলেই চলবে না, ভাবনাটা নাসির-সাব্বিরকে কাজেও লাগাতে হবে।

-প্রথমআলো।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন