শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ ০২:৫৫:৪৬ পিএম

সাকিব আল হাসানের সামনে হ্যাটট্রিকের হাতছানি

খেলাধুলা | শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০১৮ | ১১:৫৪:৪৯ এএম

সাকিব আল হাসানের সামনে আজ একটি সাফল্য হাতছানি দিচ্ছে। ব্যাট এবং বল হাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুর্দান্ত খেলেছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এর আগে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে দুটি ওয়ানডে আসরের ফাইনালে ব্যাট ও বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছেন সাকিব। ফলে দুইবারই টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন। এবারও যদি সেরা পারফর্মার হন তবে অন্য রকম হ্যাটট্রিক করবেন তিনি।

সেই ২০০৯ সালে তিন জাতি আসর এবং ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল টাইগারদের ‘দুঃখগাথা’ হয়েই আছে। দল সাফল্যের নাগাল না পেলেও পারফরমার সাকিব আল হাসান ওই দুইবারই সাফল্যের চুড়ায় ছিলেন। দুটি টুর্নামেন্টেই ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট ছিলেন সাকিব।

২০০৯ সালের তিন জাতি টুর্নামেন্ট এবারের মত ডাবল লেগের ছিল না। একবার করে খেলার পরই ফাইনাল। এখন দুই ম্যাচের কমপক্ষে একটিতে না জিতলে ফাইনাল খেলা কঠিন ছিল। ওই বছর প্রথমদিন জিম্বাবুয়ের কাছে ৩৮ রানে হেরে যাওয়ায় হিসেব কঠিন হয়ে ওঠে টাইগারদের। ফাইনাল খেলতে শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতাই নয়, বোনাস পয়েন্টসহ জয় অত্যাবশ্যক হয়ে ওঠে। আলোর স্বল্পতায় দেরিতে শুরু হওয়া ৩১ ওভারের ম্যাচে সাকিবের চওড়া ব্যাটেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের বন্দরে ভিড়ে বাংলাদেশের নৌকা। শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হাতে রেখে ৪৩ বল আগেই ওই রান টপকে যায়।

সাকিব প্রায় অসাধ্য সাধন করেন। তার ব্যাট থেকে বেড়িয়ে আসে ৬৯ বলে ৯২ রানের হার না মানা ইনিংস (১০ বাউন্ডারি আর দুই ছক্কাসহ)। আর তাতেই বোনাস পয়েন্ট নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের ফাইনালের টিকিট হয় কনফার্ম। ওই আসরে সাকিব তিন ম্যাচে ৫ উইকেট আর ১৫৩ রান (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩/ ২৩ ও ৫২, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রবিন লিগে ০/২৪ ও ৬৯ বলে ৯২* আর ফাইনালে ৯ ও ২/২২) ধারাবাহিকভাবে ব্যাট ও বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়ে হন ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট।

২০১২ সালের এশিয়া কাপের চিত্রও এক। সে বার টিম পারফরমেন্সে বাংলাদেশ প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনাল খেললেও সে মিশনে সাকিবই ছিলেন সাহসী ও দক্ষ নাবিক। তার অলরাউন্ডিং পারফরমেন্সই মূলত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে ফাইনাল পর্যন্ত পৌছে যায় মুশফিকের দল। ম্যান অফ দ্যা এশিয়া কাপ হন সাকিব আল হাসান।

ওই আসরে সাকিব প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে (২/৪১ ও ৬৪ ) দ্বিতীয় খেলায় ভারতের সাথে (০/৬৩ ও ৪৯) এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে (২/৫৬ ও ৫৬) ব্যাট-বলে পারফরমেন্স দেখানোর পর ফাইনালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে (২/৩৯ ও ৭২ বলে ৬৮) ব্যাট ও বলে নজর কাড়েন। চার খেলায় একমাত্র ভারতের সাথে ৪৯ রান করা ছাড়া বাকি তিন ম্যাচে ফিফটিসহ সাকিব করেন ২৩৭ রান। আর তার ঝুলিতে জমা পড়ে ছয় উইকেট।

এবারো সাকিব ব্যাট আর বল হাতে দুরন্ত। দূর্বার। চিরচেনা মিডল অর্ডারে ব্যাট করা সাকিব এবার শুরু থেকে ওয়ান ডাউনে নেমেও যথেষ্ঠ ভালো খেলছেন। তিন নম্বরে নামা সাকিবের এ আসরে রান (৩৭+৬৭+৫১+৮) = ১৬৩। আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ফিরতি পর্বের ম্যাচটি ছাড়া বাঁহাতি স্পিনার সাকিব রবিন লিগের অন্য তিন ম্যাচের প্রতিটায় (৩/৪৩, ৩/৪৭/৩/৩৪) তিন উইকেট করে পেয়েছেন চার ম্যাচে তার নামের পাশে জমা পড়েছে ৯ উইকেট।

পুরো আসরে এমন অলরাউন্ডিং পারফরমেন্স নেই আর কারো। কাজেই এবারো আসর সেরা পারফরমার হবার হাতছানি সাকিবের সামনে। আজ ফাইনালে ব্যাট ও বল হাতে জ্বলে উঠলেই সাকিব টুর্নামেন্টে সেরা হয়ে হ্যাটট্রিক পারফর্মার হবেন, তবে সেটা ম্যাচে শুরু হলেই বোঝা যাবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন