বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ ০৩:২৩:৫২ পিএম

দেশে ফেসবুক আইডি হ্যাক করাই যাদের পেশা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৮ | ১২:৩৩:১৭ পিএম

পরিচিতরা জানে, ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে তারা। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা আসলে অন্যের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। তারপর নানা কৌশলে আইডি ব্যবহারকারীর বন্ধুদের কাছ থেকে আদায়

করে অর্থ। এ রকম একটি চক্রের এক সদস্য অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। চক্রের মূলহোতা লিখনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে গোয়েন্দারা।

সূত্র জানায়, খিলক্ষেতের উত্তর নামাপাড়া। বিকাল হলেই চায়ের দোকান ও আশপাশে তরুণদের জমজমাট আড্ডা। এসব আড্ডার পরিচিত মুখ আজাদ হোসেন অপু ও লিখন। অল্প দিনেই সকলের নজরে পড়ে লিখন। তার বিলাসিতায় সন্দেহ হয় অনেকের। আশপাশের লোকজন জানতো ইন্টারনেটে আউটসোর্সিং করে। তবে তার সহযোগী বন্ধু আজাদকে গ্রেপ্তারের পর বের হয়ে আসে আসল কাহিনী।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরনবীর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিতে আজাদ বলেছে, ‘লিখন... আমার ছোট ভাই তথা বন্ধু। লিখনের সঙ্গে প্রত্যেক দিন আমার দেখা হতো। তার সঙ্গে আমার গভীর বন্ধুতার সম্পর্ক তৈরি হয়। লিখন হঠাৎ লিফান ১৫০ সিসি মোটরবাইক ক্রয় করে। আমি তখন লিখনকে জিজ্ঞাসা করলে সে প্রথমে বলতে চায় না। পরে বলে, সে ফেসবুক হ্যাক করে। ফেসবুক ফেরত দেয়ার কথা বলে টাকা চাইলে বিকাশে টাকা পাওয়া যায়। আমার ব্যক্তিগত কোনো বিকাশ নম্বর ছিল না। আমি লিখনকে অনেক সাহায্য করেছি। লিখন অনেক ফেসবুক হ্যাক করেছে। প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’

বনানীর একটি ফুড ফ্যাক্টরির এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্টস হিসেবে কর্মরত ছিল আজাদ। সরকারি তিতুমীর কলেজে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে লেখাপড়া করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আজাদ জানিয়েছে, ফেসবুকে আইডি হ্যাক করার কাজটি করতো লিখন। ফেসবুক প্রোফাইল দেখেই টার্গেট করা হতো। যেসব ব্যক্তি তার পরিচিতদের কাছে টাকা খুঁজলে সহজেই পাবে- এক্ষেত্রে তাদের আইডিকে গুরুত্ব দেয়া হতো। এই চক্রের হ্যাককৃত আইডির বেশির ভাগই ছিল নারীদের। হ্যাক করার পর হ্যাককৃত আইডির নিয়ন্ত্রণ থাকতো আজাদের হাতে। তার কাজ ছিল ওই আইডি থেকে বিভিন্নজনকে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো। নিজে আইডি ব্যবহারকারী সেজে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বন্ধুদের কাছে টাকা চাওয়া। তানিয়া নামের এক নারীর আইডি হ্যাক করে প্রায় ৬০ জনের কাছে টাকা খুঁজেছিলো চক্রটি। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন বিভিন্ন অঙ্কের টাকা পাঠায় বিকাশে। হ্যাকিং করেই কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলো তারা। দিন-রাত অপরাধমূলক এ কাজেই ব্যস্ত ছিল লিখন ও আজাদ। তবে পুলিশের ধারণা, আরো অনেকে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

জিজ্ঞাসাবাদে আজাদ আরো জানিয়েছে, টাকা নেয়ার জন্য নামে-বেনামে বিকাশ হিসাব একাউন্ট খোলে তারা। তাদের একজনের অন্তত ১০ থেকে ১২টি বিকাশ একাউন্ট খোলা ছিল। বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য তারা বিভিন্ন দোকান থেকে অবৈধ সিম কিনতো। এভাবে কিছু দিনের মধ্যেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে তারা। ফেসবুক হ্যাক করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যারও ব্যবহার করতো তারা।

তানিয়া নামে এক নারীর আইডি হ্যাক করার পর তার স্বামী সাইফুল ইসলাম নিউমার্কেট থানায় একটি জিডি করেন। এই জিডির সূত্র ধরে খিলক্ষেত থেকে আজাদ হোসেন অপুকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা। গ্রেপ্তার হওয়া আজাদ ফরিদপুর সদরের চন্দ্রপাড়ার বেলায়েত হোসেনের পুত্র।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হ্যাকার লিখনের অন্যতম সহযোগী আজাদ। আদালতে সে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। লিখনসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে আমরা তৎপরতা চালাচ্ছি। সেই সঙ্গে এরকম অন্যান্য চক্রকে আইনের আওতায় আনতে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে।

সূত্র: মানবজমিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন