সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ ০১:৪০:১৮ পিএম

এবার সিমেন্টের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কাদামাটির প্রলেপ (ভিডিওসহ)

নগর জীবন | মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৮ | ০১:৫৫:৩২ পিএম

রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় আলোচনার রেশ শেষ হতে না হতেই এবার সিমেন্টের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কাদামাটির প্রলেপ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নতুন যুক্ত হওয়া ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদবাগ চৌরাস্তার ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনের ড্রেন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছিল এই কাদামাটি। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ওই ড্রেন ভেঙে দিয়েছেন। জনতাকে বাধা দেওয়ায় মারধরের শিকারও হয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্মাণ শ্রমিকরা।

ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, চাকদাহ, ঢাকা ম্যাচ, রাজউক দ্বিতীয় পর্ব, ওয়াসা কলোনি, মুন্সীখোলা তেলকল, পূর্ব কদমতলী, মোহাম্মদবাগ ও মেরাজনগর নিয়ে ডিএসসিসির ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত। সম্প্রতি এ ওয়ার্ডটিসহ শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকায় ৭৩৪ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র সাঈদ খোকন। এরই অংশ হিসেবে প্রধান সড়কগুলোর পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। সংস্থার অর্থায়নে এ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে কে এন্টারপ্রাইজ। এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ড্রেন নির্মাণ কাজটি করছেন ঠিকাদার গোপরান চৌধুরী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোহাম্মদবাগ চৌরাস্তা থেকে মিরাজনগর যাওয়ার রাস্তাটির মাঝের এলাকায় ন্যাশানাল ব্যাংকের নিচে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। গত শুক্রবার রাতে ড্রেনের কিছু অংশ ঢালাই করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে ঢালাইয়ের প্রলেপ খুলতে গেলে দেয়ালে ফাটল ধরে। পরে স্থানীয়রা ধরতে গেলে তা ভেঙে পড়ে। দেখা যায় সিমেন্ট নয়, ব্যবহার করা হয়েছে কাদামাটি। এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কাদামাটির প্রলেপ তুলে ফেলেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ থাকলেও বছরের পর বছর নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা। রাস্তা-ঘাট, নর্দমা, ফুটপাত, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সিটি করপোরেশনের মানের অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত-বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনায় এলাকাগুলোর বেহাল অবস্থা। নতুন ওয়ার্ডগুলো সিটি করপোরেশনে যুক্ত হলে উন্নয়নের আশায় বুক বেধেঁছেন অনেকেইে। সে অনুযায়ী উন্নয়ন কাজও চলছে। উন্নয়ন কাজ মাঠ পর্যায়ে শুরু হলে তাদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তবে উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে হতাশা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোহাম্মদবাগ চৌরাস্তায় অবস্থিত ন্যাশনাল ব্যাংকের নিচে ভেঙে যাওয়া ওই ড্রেনটি আবার নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশের রাস্তাগুলো পানি ও কাদায় একাকার। সড়কের দুরাবস্থা ও চলমান উন্নয়ন কাজের জন্য এখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়।

মোহাম্মদবাগ চৌরাস্তার এক দোকানি বললেন, ‘দিনের বেলায় ড্রেন নির্মাণ করতে দেখিনি। এই এলাকার সব ড্রেন রাতেই তৈরি করেছে তারা। সকালে দোকান খুলতে এসে দেখি ড্রেনের দেয়ালে ফাটল। পরে আশেপাশের লোকজন এসে শ্রমিকদের মারধর করে। পরে বাঁশ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভেঙে ফেলে দেয়াল। এখনই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে কয়েকদিন পর ড্রেন থাকবে না।’ কোটি টাকার কাজের অর্ধেকই ঠিকাদাররা লুটে নিচ্ছে বলে সন্দেহের কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জে কে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার গোফরান চৌধুরীর সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তবে তার এক নিকটাত্মীয় জানিয়েছেন, এই ঠিকাদারের লাইসেন্সে কাজটি করছেন অন্য একজন।

ড্রেন নির্মাণে সিমেন্টের বদলে কাদামাটি ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডিএসসিসি’র অঞ্চল ৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাটি আমাদের কানে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি।’ তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘ড্রেনের ঢালাইয়ের মিক্সচারগুলো অনেক দূর থেকে এনে ঢালাই দিতে হয়। ওই মিক্সচারে সমস্যা হয়েছে। নির্মাণ উপকরণগুলো ভালো করে মিক্স হয়নি বলেই সমস্যাটি হয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো নির্মাণ কাজের অন্যান্য স্থানেও এমন সমস্যা রয়েছে। মোহাম্মদবাগের ওই স্থানটিতে ধরা পড়েছে বলেই তা পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। অন্যান্য স্থানগুলোও তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানান। এ বিষয়ে কাজী বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘এরকম সমস্যা হতে পারে না। আমরা প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করেছি।’

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়া চারটি ইউনিয়নের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। ডিএসসিসির আওতাধীন শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া ইউনিয়নে নাগরিক সুবিধা বর্তমানে অপ্রতুল। এসব এলাকার উন্নয়নে ৭৩৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের একটি প্রকল্প গত বছরের ১০ জানুয়ারি অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি চারটি ইউনিয়ন ও ঢাকা উত্তর সিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ইউনিয়নগুলোর উন্নয়নে প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আটটি ইউনিয়ন শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদকে ভেঙে ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে।




-তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন