সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০২:৫০:২০ পিএম

স্যার আমি পুলিশে চাকরি করি, তাই পালিয়ে যেতে পারিনি...

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | জাতীয় | মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৮:৫৭:২৩ পিএম

‘স্যার আমি পুলিশে চাকরি করি, তাই প্রিজন ভ্যান ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারিনি। ওরা আমাকে মেরেছে। তবুও কিছু বলিনি। বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী পুলিশ ভ্যানের ওপর হামলে পড়ে। সামনে থাকা আরো দুই পুলিশ সদস্যসহ আমার ওপর হামলা চালায়। তারা গাড়ি ভাঙচুর করে। এরপর প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙ্গে ওদের দুই লোককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

মঙ্গলবার বিকেলে শাহবাগ থানায় ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবেই বলছিলেন প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভার কনস্টেবল খসরু মান্নান।

ঊর্ধ্বতন ওই পুলিশ কর্মকর্তা শাহবাগ থানায় এসেই প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভার মান্নানকে ডাকেন। ঘটনা শুনে বলেন, তুমি গাড়ি নিয়ে পালাতে পার নাই। ওখানে গাড়ি রাখছ কেন? মার খেলে গাড়িটাও ভাঙলো। এর জবাবেই মান্নান কথাগুলি বলেন।

ঘটনা জানতে এই প্রতিবেদক প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভার খসরু মান্নান বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে শাহবাগ থানার এসআই রাইবুল হাসান বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করে হাইকোর্টের সামনে জাতীয় ঈদগাহ গেটে রাখা প্রিজন ভ্যানে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরে আমি বলেছিলাম, স্যার আসামী দুজনকে থানায় রেখে আসি। কিন্তু উনি না শুনে উল্টো আমাকে ধমক দেন। এরপর ৩টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর আসে। ওই সময় কয়েকশ নেতাকর্মী গাড়ির সামনে ও পেছনে মিছিল করছিল।

মান্নান জানান, মিছিলটি প্রিজন ভ্যানের কাছে আসতেই ভেতরে থাকা আটক দুইজন চিৎকার দিয়ে ওঠে। আমাদের ধরে এনেছে, আমাদের বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও। এরপরই মূলত নেতাকর্মীরা গাড়ির ওপর হামলা চালায়। আমিসহ পুলিশের তিন সদস্যকে মারধর করে। গাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। লাথি মারে। গাড়ির জানালা ও লুকিং গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে। দুই পুলিশের কাছে থাকা দুইটি বন্দুকও ভাংচুর করে। ওই দুই পুলিশ সদস্য দৌড়ে পালালে হামলাকারীরা প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙ্গে দুইজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আশেপাশে আর কোনো পুলিশ ছিল? জানতে চাইলে ড্রাইভার মান্নান অভিযোগ করে বলেন, আশেপাশে অনেক পুলিশ ছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রিজন ভ্যানেও পুলিশ চেয়েছিলাম তবুও দেয়নি।

এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরের মিছিল থেকে প্রিজন ভ্যানের ওপর হামলা করেছে। তালা ভেঙ্গে দুজনকে ছিনিয়ে নিয়েছে। গাড়ি ভাংচুর করেছে। পুলিশের অস্ত্র ভাংচুর করেছে। এ অপরাধে থানায় মামলা হবে।

পুলিশের আরেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে যাতায়াতের সময় পুলিশ কিছু বলবে না। কারণ একদিন সামান্য কিছু করলেই তারা আদালতে আবেদন করবে যে, আদালতে যাতায়াতের সময় পুলিশ বাধা দেয়। তখন আদালত না আবার আমাদের ডাকেন। তাই কিছু করা হয় না। তারা যা পারে করে যাক। কিন্তু পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিজন ভ্যানের তালা ভেঙ্গে আসামী নিয়ে যাবে তা সহ্য করা হবে না। উনি দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, পুলিশের চেয়ে ওনার দায়িত্ব বেশি ছিল। নেতাকর্মীদের থামাতে দায়িত্ব তো উনার বেশি ছিল। কিন্তু সেটি হয়নি।

কতজন আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান বলেন, মোট ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে। গণমাধ্যমের ছবি দেখে জড়িতদের সনাক্ত করা হবে।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদার জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বরদাসত করা হবে না-ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার এমন বক্তব্যের তিন ঘণ্টার মাথায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালাল।

-সারাবাংলা.নেট।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন