বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ০৯:৩৮:২২ এএম

হঠাৎ মারমুখী বিএনপি, নেপথ্যে কি?

রাজনীতি | বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৩:৩৬:৪৩ পিএম

জিয়া ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় প্রদান করা হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। কী রায় হবে এবং রায়ে কারাদ- হলে দলের অবস্থান ও কর্মসূচি কী হবে, খালাস হলেইবা কী হবে- এ নিয়ে দেশের রাজনীতিতে ইতোমধ্যেই বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। রায় নিয়ে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনীতির মাঠে। বিএনপি দলটির নেতাকর্মীদের ৮ ফেব্রুয়ারি মাঠে থাকতে জোর নির্দেশ দিয়েছে। আওয়ামী লীগও পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে বলেছে, রাজপথে কোনো সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না এবং যে কোনো মূল্যে তা প্রতিরোধ করা হবে। এরই মধ্যে গতকাল রাজধানীর রাজপথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হঠাৎ মারমুখী চেহারায় দেখা গেছে। পুলিশের ওপর হামলা, প্রিজনভ্যান ভাঙচুরসহ আটক ২ বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া পুলিশের রাইফেল ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতরাতে সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, এই হামলার ঘটনায় শাহবাগ ও রমনা থানায় পুলিশ বাদি হয়ে দুটি মামলা করেছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালত থেকে ফেরার পথে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় পুলিশের রমনা বিভাগের এডিসি আজমসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ বিএনপির ৬৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে গতরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলছিল।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন গতকাল বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরছিলেন। দুপুর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা বিএনপি নেত্রীর ফেরার পথ হাইকোর্ট মাজার গেটে জড়ো হন। বিকাল পৌনে চারটার দিকে বকশিবাজার থেকে বিএনপির আরেকটি মিছিল এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা সবাই শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল থেকে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর হঠাৎ চড়াও হয়। হাইকোর্টের সামনে সমবেত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে বিএনপির উত্তেজিত কিছু নেতাকর্মী ওই দুই নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে প্রিজনভ্যানে হামলা ও ভাঙচুর চালান।

পুলিশ দাবি করেছে, হাইকোর্টের কদম ফোয়ারার মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের দিকে অবিরত ইট-পাটকেল ছোড়ে তারা। এতে রমনা বিভাগের এডিসি আজমের হাতের আঙুল ফেটে যায়। আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাদের হেলমেট ও রাইফেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের একটি প্রিজনভ্যান ছিল। মিছিল থেকে কর্মীরা এসে ভ্যানটি ভাঙচুর করে গাড়ি থেকে বিএনপির আটক দুই কর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

অবশ্য শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, প্রিজনভ্যানে কোনো আসামি ছিল না। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল বিকালে হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় প্রিজনভ্যান থেকে সোহাগ মজুমদার এবং ওবায়দুল হক নামে বিএনপির দুই নেতাকর্মীকে ইশারা করলে প্রিজনভ্যান ঘিরে জড়ো হন তারা এবং একপর্যায়ে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় এক পুলিশ সদস্য বাধা দিতে গেলে তাকে ঘিরে ফেলেন কর্মীরা। সেই পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে তার এক সহকর্মী এগিয়ে এলে তাদের দুজনের ওপর হামলা করেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা এবং একটি রাইফেল ভেঙে ফেলেন। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীরা এগিয়ে এসে তাদের সরিয়ে নিয়ে চলে যান।

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বিনা উসকানিতে খালেদা জিয়ার মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে পুলিশের এক এডিসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুজন কোনো মামলার আসামি ছিল কিনা, খোঁজখবর নিয়ে বলা যাবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের হিংসাত্মক আচরণ অতীতের সব স্বৈরাচারের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; তাদের সভ্যতা, ভব্যতার তিলমাত্র অবশিষ্ট নেই। হিংসাপরায়ণ ও ক্ষমতালোভী আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে বানোয়াট ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মামলায় জড়িয়ে একদিকে যেমন আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে, তেমনিভাবে আদালতে দেশনেত্রীর হাজিরার দিনগুলোতে তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ দিয়ে ন্যক্কারজনক হামলা চালাচ্ছে, গ্রেপ্তার করছে।

তিনি আরও বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এটি যেন পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক হয়ে গেছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। কিন্তু জাতীয়তাবাদী শক্তিকে কখনই নির্মূল করা যাবে না। পুলিশ কর্তৃক বিএনপি এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং হামলা চালিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করার ঘৃণ্য আচরণের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মু্িক্তর জোর দাবি করছি।

এ সময় তিনি পুলিশি হামলায় আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতাও কামনা করেন। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর থেকে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণখান থানার ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক এম মিন্নত আলী, দক্ষিণ খান থানা বিএনপি সদস্য হারুন অর রশীদ, স্বেচ্ছাসেবক দল উত্তরখান থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, দক্ষিণখান থানার ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, পল্লবী থানার নেতা সাইদুর রহমান, তুরাগ থানার নেতা বুলু, খোকন সরকার, কবির, রামপুরা থানার নেতা ডল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কামরাঙ্গীরচর থানার নেতা বাবুল, মানিক, চকবাজার থানার নেতা আল আমীন, শ্যামপুর থানার নেতা জামান আহমেদ পিণ্টু, পল্টন থানার নেতা ইসমাইল হোসেন তালুকদার, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা, মহিলা দলের নেত্রী আরজু, শ্রমিক দল ঢাকা মহানগরের নেতা জিল্লুর রহমান, আলম, জসিম, আলম দেওয়ানসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।

তাদের গ্রেপ্তার করা এবং হামলা চালিয়ে গে-ারিয়া থানা নেতা আবদুল কাদের কমিশনার ও শাহবাগ থানা নেতা সুমনসহ আরও অনেক নেতাকর্মীকে আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

-পূর্বপশ্চিমবিডি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন