বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০১:২৪:৪৬ এএম

৪ মেরেই মেতে উঠলেন অচেনা উদযাপনে, মুমিনুলের উদযাপনের কারন জানালেন তামিম

খেলাধুলা | বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৮:৪৫:৪১ পিএম

সেঞ্চুরি তার এটাই প্রথম নয়। সব মিলিয়ে পঞ্চম। আগের কোনো সেঞ্চুরির পর তাকে এ রকম বাধনহারা উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়নি। বরং হ্যালমেট খুলে এক হাতে নিয়ে, অন্য হাতে ব্যাট উঁচিয়েই শেষ করে উদযাপন। কিন্তু এবার কী হলো মুমিনুল হকের? লক্ষণ সান্দাকানকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরেই মেতে উঠলেন অচেনা উদযাপনে। কেনো তার এমন উদযাপন তার কারণ জানেন বলে দিনের খেলা শেষে দাবি করলেন তামিম ইকবাল।

স্থিতধী মুমিনুলের আবেগি উদযাপনের কারণটা মনে হয় অজানা নয় কারোরই। অন্তত যারা তার ব্যাটসম্যান সত্তার সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত আছেন বা যারা জানেন দুই তিনটা বছর ঠিক কী রকম সময়ের ভিতর দিয়ে তিনি গেছেন, তাদের জন্য মুমিনুলের উদযাপনের হেতু কোনো রহস্য নয়।

তা কেমন ছিলো উদযাপনটা— এক্সট্রা কাভারের দিকে মারা তার পরিস্কার শটটা সীমানা ছোঁয়ার আগেই মুশফিকের সঙ্গে রান নিতে নিতেই এক দফা উদযাপন করে ফেলেন মুমিনুল। এরপর লাফিয়ে শূন্যে হাঁকান ঘুষি! তারপর প্রায় দৌড়ে যাচ্ছিলেন ড্রেসিংরুমে। আবেগি মুমিনুল যেনো ভেসে যেতে চাইছিলেন সতীর্থদের আলিঙ্গনে। ড্রেসিংরুমের দিকের দৌড়টা থামিয়ে মুমিনুল অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমের দিকে। বার কয়েক দোলালেন ব্যাট। যেনো সব কথা বলতে ফেলতে চাইলেন ব্যাটের তোই দোলনাতেই!

মুমিনুল এ রকম অচেনা রূপ নিয়ে কেনো হাজির হলেন— এমন প্রশ্ন দিন শেষে করা হয়েছিলো তামিম ইকবাল। উত্তরে তামিম বলেন, ‘ওর আসলে একটা কিছু প্রমাণের ছিলো। যা সে দারুণভাবে করেছে। তাকে এটা করতে দেখাটা খুব ভালো লাগার ব্যাপার। আমি জানি সে এটা কেনো করেছে।’

কারণ জানেন দাবি করলেও তামিম বলেননি কিছুই। তাতে অবশ্য বোঝার বাকি থাকলো না কারোরই। মুমিনুলের ওই উদযাপন ছিলো শ্রীলঙ্কার কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের জন্য। যে বাংলাদেশের কোচ থাকা অবস্থায় মুমিনুলকে প্রায় ফেলে দিচ্ছিলেন বাতিলের খাতায়। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার সময়েই ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। টেস্টেও তার জায়গাটা ক্রমেই হয়ে পড়ছিলো নড়বড়ে। ফলে মুমিনুলের কিছু রাগ যদি জমেই থাকে তার প্রতি এবং তার প্রকাশ যদি হয় দারূণ এক সেঞ্চুরির পর, সেটা মনে হয় না খুব বেশি বিস্ময়ের কিছু।

উদযাপন নয়, তামিম বরং বেশি কথা বললেন মুমিনুলের ব্যাটিং ও মানসিকতা নিয়ে, ‘মুমিনুলের ইনিংসটি এক কথায় দারুণ মুগ্ধকর ছিলো। সে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেছে এবং পুরো ইনিংসে একই রকমভাবে খেলে গেছে। যখন ওর একশ রান হয়, তখন রানরেট ছিলো ১০৩! অনেক সময় দেখা যায় ব্যাটিং করতে সহজ হলে অনেক উত্তেজিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে। ও কিন্তু তা করেনি। ও জানতো ওর উইকেটের মূল্য। আমার মনে হয় ওর ইনিসংটি আরো বড় হবে।’

প্রথম দিনের খেলা শেষে মুমিনুল অপরাজিত আছেন ১৭৫ রানে। তার ইনিংসটি নিঃসন্দেহে আরো বড় হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় কাজটা বোধহয় তিনি এর মধ্যেই করে ফেলেছেন। তার ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে চান্দিকার যে সংশয় ছিলো, উপেক্ষা ও বঞ্চনা ছিলো, মুমিনুল তার জবাবটা দুর্দান্তভাবে দিয়েছেন।

চান্দিকার বিদায়ের পর প্রথম টেস্টেই, মুমিনুল তাকেই পেয়ে গেলেন প্রতিপক্ষ হিসেবে এবং তার সামনেই দেখালেন সাবলিল ব্যাটিংয়ের প্রায় নিখুঁত প্রদর্শনী। তার সামনেই শূন্যে ছুড়লেন ঘুষি। কে জানে, চান্দিকা হয়তো আনমনে ঘুষিটা তার কোচিং দর্শনের গায়েই লাগতে দেখলেন!

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন