বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:১৩:৫১ এএম

গয়েশ্বর কারাগারে, ৩৬ জন রিমান্ডে

আইন আদালত | ঢাকা | বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ | ০৮:৫০:০৮ পিএম

রমনা থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ৩৬ জনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। চকবাজার থানার বিএনপি নেতা শফিক উদ্দিন আহম্মেদ জুয়েলের রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে একদিনের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মহিলা দলের প্রাক্তন সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা (৬০), মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেহানা সুলতানা আরজু (৪৫), কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেত্রী শারমিন আক্তার মুন্নি (৩৫), চকুয়া থানা বিএনপির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক লিটন(৪৭), মো. আলম (৩৯), মো. ইমরান মিয়া (৩০), শেরেবাংলা নগর থানার ২৮ নং ওয়ার্ডের ছাত্র দলের সদস্য সালাহ উদ্দিন (২৯), রামপুরা থানার কৃষক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আরিশ (৫০), তুরাগ থানার বিএনপির কর্মী মো. কবির হোসেন (৩৮), মো. খোকন সরকার (৫২), ছাত্রদল সদস্য মো. ইমরান হোসেন (২৭), শ্রমিক দল সদস্য রফিকুল ইসলাম মনু (৪৪), ছাত্রদল সদস্য মো. ফাইজুল ইসলাম নোমান (৩৪), বিএনপি কর্মী মো. শরিফ (৩৮), ভান্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল হক (৩৮), পল্টন থানা বিএনপি নেতা গাজী হাবিব হাসান (৪৫), পল্লবী থানা বিএনপি নেতা মো. সাইদুর রহমান (৫১), উত্তরা পূর্ব থানার বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম (৫২), চকবাজার থানার বিএনপির নেতা মো. আব্দুল্লাহ নূর (৪০), ফরিদগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল তালুকদার খোকন (৪৮), কামরাঙ্গীরচর থানার শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. জসিম মিয়া (৩৮), শ্রমিক নেতা আমজাদ হোসেন (৩০), কামরাঙ্গীরচর থানা শ্রমিক দলের সদস্য মো. আলম মিয়া (৪০), রাজনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. রুবেল আহমেদ (৩০), ঢাকা মহানগর ছাত্রদল পশ্চিমের সদস্য মো. মানা (২৯), উত্তরা পূর্ব থানার বিএনপির সদস্য মো. মাহবুব খান (৩৪), উত্তরা পূর্ব থানার শ্রমিক দলের সদস্য মো. সুজন মিয়া (২৮), বংশাল থানা ছাত্রদল নেতা সৈকত রহমান (১৮), চকবাজার থানা বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জুয়েল (৫০), ছাত্রদল কর্মী মো. নাঈম হোসেন (২৯), চকুয়া থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন (৩৫), ছাত্রদল সদস্য নুবয়াত আল মাহামুদ ইনু (৩৬), চকুয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজ আহমেদ (৩৮) ও ওয়ারি থানা বিএনপি কর্মী মীর মাহামুদুর রহমান (৪৫)। এদের মধ্যে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের তিন দিন এবং অপর আসামিদের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) রফিকুল ইসলাম আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আর অপর আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শিহাব উদ্দিন, সালমা হাই টুনি ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

আসামিপক্ষে সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন প্রমুখ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জামিনের আবেদন করেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পক্ষে জামিন শুনানিতে তারা বলেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। প্রতিহিংসার বশে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তার জামিনের প্রার্থনা করছি।

অপর আসামিদের রিমান্ড শুনানিতে তারা বলেন, খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আদালতে হাজিরা দিতে যান। তিনি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে দেখার জন্য লোকজন রাস্তায় দাঁড়াতে পারে। পুলিশ তাদের খোঁচা দিচ্ছে আর এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে।

তারা বলেন, খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের তারিখ ধার্য আছে ৮ ফেব্রুয়ারি। রায়েকে কেন্দ্র করে প্রতিটি থানায় গণগ্রেপ্তার শুরু হয়েছে।

তারা আরো বলেন, বিএনপি করাটাই তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের গ্রেপ্তার করে হয়রানি করার জন্য মামলা দেওয়া হচ্ছে। এখানে রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা তাদের জামিন মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি। আর জামিন না দিলে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন এবং ৩৬ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে রমনা থানার আরেক মামলায় বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

একই ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা দুই মামলায় ১৮ জনের দুদিনের রিমান্ড দেন আদালত। তাদের সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা ও ছাত্রদলের দুই কর্মীসহ তিন নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা করা হয়। রমনা ও শাহবাগ থানায় মামলাগুলো দায়ের হয়।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রহিদুল ইসলাম ও এসআই চম্পক বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় পৃথক দুটি এবং রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই ঘটনার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে তার শান্তিনগরের বাসা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন