সোমবার, ২১ মে ২০১৮ ০৩:১০:০৭ পিএম

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও পাঁচ গণকবরের প্রমাণ মিলেছে

আন্তর্জাতিক | বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৬:৩৩:১০ পিএম


যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বিশেষ অনুসন্ধানে মিয়ানমারে কয়েক শত রোহিঙ্গার গণহত্যার শিকার হওয়া ও তাদের পাঁচটি গণকবরে চাপা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এপি। বেঁচে ফেরা দুই ডজন প্রত্যক্ষদর্শী ও হতাহত রোহিঙ্গাদের স্বজনদের সাক্ষ্য এবং ঘটনার পর মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিওর ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই বার্তা সংস্থা।

ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমারের সেনারা প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে। একটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, কিছুটা ফুটবলের মতো ‘চিনলন’ নামে স্থানীয় এক খেলায় দল গঠনের জন্য সদস্য বাছাই করা হচ্ছিল। সে সময় মিয়ানমারের সেনারা তাদের ওপর গুলি চালায়। সেখান থেকে বেঁচে ফেরা নুর কাদির নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, পরে তিনি দেখেন তার ছয় বন্ধুকে দুটি গণকরবে চাপা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তার বন্ধুদের পরিহিত অন্তর্বাসের রঙ দেখেই তিনি তাদের চিনতে পারেন।

২৭ আগস্ট গু দার পিয়ান গ্রামে এই গণহত্যা চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখান থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন এপিকে বলেন, হত্যার ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সেনারা। এ ছাড়া বার্তা সংস্থার হাতে আসা ভিডিও দেখে এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে যে, মরদেহগুলো অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করার চেষ্টা করেছিল তারা।

ভারি বৃষ্টিপাতে মাটি ধুয়ে গিয়ে অগভীর কবরগুলোতে থাকা দেহাবশেষ ভেসে ওঠে এবং বেঁচে যাওয়া লোকজন সেসব দৃশ্য ধারণ করে রাখতে সক্ষম হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক বলেছেন, এই প্রতিবেদন মিয়ানমারের কাছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জবাবদিহি চাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন সামনে এনেছে। এসব গণহত্যাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের দোষী সেনা কমান্ডার ও সৈন্যদের বেছে বেছে তাদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের উপযুক্ত সময় এটি।

এর আগে ইন দিন গ্রামে একটি গণকরবের দায় স্বীকার করে মিয়ানমার। ওই গণকবরে ১০ জনের মরদেহ ছিল। ওই গণহত্যা হয়েছিল সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে তা জানানো হয়। তখন দাবি করা হয়েছিল, ওই ১০ জন সন্ত্রাসী ছিল।

২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বর্বর নির্যাতন-নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালানো শুরু করলে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার রোহিঙ্গা। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে কাজ করছে। ধাপে ধাপে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে প্রথমে তাদের অস্থায়ী কেন্দ্রে রাখবে মিয়ানমার। কিন্তু অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, এসব কেন্দ্র হবে নির্যাতনশালা।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হলেও নাগরিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া ও সংখ্যালঘু আদিবাসী হিসেবে রাষ্ট্রীয় তালিকায় স্থান দেওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছুই বলেনি মিয়ানমার। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা। এ অবস্থায় জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রও উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশ বলেছে, নিয়ম মেনেই তাদের প্রত্যাবাসন করানো হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন