সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ ০১:৪২:৩১ পিএম

বাইরে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে রান্নাঘরে আমার শরীর নিয়ে খেলতো

আন্তর্জাতিক | বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৭:৩৮:০৮ পিএম

একবার নয়, দু'বার নয়। টানা দু'বছর ধরে ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোডা জেলার বাসিন্দা এক নাবালিকাকে সম্ভ্রমহানী করা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। আর এই খবরেই ফের একবার শিরোনামে রাজধানী দিল্লি। একজন নয়, দু'জন ব্যক্তি মিলে ওই কিশোরীর উপর গত দু'বছরে অত্যাচার চালিয়েছে।

আপাতত এই পাশবিক অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে ওই নাবালিকা দিল্লির বি কে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিই পলাতক। ওই নাবালিকা জানিয়েছে, দু'বছর আগে তার মা-বাবা গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। এরপর ওই নাবালিকা এবং তার দুই ভাইকে দেখভালের জন্য তার দিদিমা তাদের সঙ্গে এসে থাকতে শুরু করেন। আর কিছুদিন পরে মাত্র চার হাজার টাকার বিনিময়ে সুরিন্দর নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়।

মেয়েটি ভেবেছিল দিল্লি গিয়ে সে হয়ত কাজ করতে পারবে। কিন্তু মেয়েটিকে দিল্লি আনার পর সুরিন্দরের আসল চরিত্র জানতে পারে সে। দিন-রাত শারিরীক নির্যাতন করা হয় তাকে। মুখে কাপড় গুঁজে, হাত-পা বেঁধে চলত পাশবিক নির্যাতন। এরপর ওই মেয়েটিকে একটি পরিবারে কাজের জন্য পাঠায়। মেয়েটি ভেবেছিল, তার দুঃখের দিন হয়ত কেটে গিয়েছে। কিন্তু না।

কাজের দিন শেষ হয়ে যায়, এরপর মেয়েটিকে নিজেরই এক বন্ধু মণি মিশ্রর বাড়িতে কাজে পাঠায় সুরিন্দর। আর সেখানেই শুরু হয় নতুন করে অত্যাচার। কেড়ে নেওয়া হয় আগের বাড়িতে কাজ করে পাওয়া ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু এরপর ওই কিশোরী পুলিশকে যা জানায় তা আরও ভয়ঙ্কর।

সে বলে, 'মিশ্র নামে ওই ব্যক্তি রান্নাঘরেই আমাকে সম্ভ্রমহানী করতে থাকে। আমাকে থাকতেও হত রান্নাঘরের এক কোণে। ওই ব্যক্তির স্ত্রী এবং সন্তানরা রান্নাঘরের বাইরে থাকলেও সম্ভ্রমহানী করতো মণি। এমনকি চলত পাশবিক অত্যাচার।

সুরিন্দরের থেকেও বেশি অত্যাচার করা হত আমাকে।' এখানেই শেষ নয়, কিশোরীকে সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকাও দেওয়া হত। এরপরই সে ওখান থেকে পালায়। এরপর দুই যুবক তাকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আক্রান্তের মুখে এই জবানবন্দি শুনে রীতিমতো শিউরে উঠেছেন দুঁদে পুলিশকর্তারা।

ইতিমধ্যে পলাতক অভিযুক্তদের ধরতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ দলও। হরিয়ানার শিশু রক্ষা কমিশনের সদস্য বালকৃষ্ণণ গোয়েল বলছেন, এরকম জঘন্য অত্যাচার তিনি আগে কারও ওপর ঘটতে দেখেননি। সূথ্র : এনডিটিভি ও আজকাল

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন