শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০২:০৪:২৮ পিএম

একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৯:০৭:৫৫ পিএম

অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮ উদ্বোধন করেন।

বৃহস্পতিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহিত্য চর্চা পারে যুব-সমাজকে সঠিক পথে ধরে রাখতে। বই পারে আমাদের চিন্তা চেতনাকে বিকশিত করতে। আজ আমরা অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি, আর কখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না।

এর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, এমপি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের শিল্প সংস্কৃতি কেবল বাংলাদেশের সীমানায় না, বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাবে।

তিনি এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ওই সময়ের দিনলিপি উপস্থিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন। ভাষা আন্দোলনে ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু আমাদের শহীদ দিবসই নয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ‘বাংলা’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মান লাভ করে। ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি বিশ্বদরবারে খুনি জাতির পরিচিতি লাভ করেছিল। আজ আবারও আমরা আমাদের ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পেরেছি। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এ বছর ১০ বিভাগে ১২ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন।

যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার ও স্মারক গ্রহণ করেন, তারা হলেন- কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হোসাইন, প্রবন্ধে অধ্যাপক মাহবুবুল হক, গবেষণায় রফিকুল্লাহ খান, অনুবাদ সাহিত্যে আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণ কাহিনীতে শাকুর মজিদ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে মোশতাক আহমেদ, নাটকে মলয় ভৌমিক এবং শিশুসাহিত্যে ঝর্নাদাশ পূরকায়স্থ।

বইমেলা প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে।

মেলার মূলমঞ্চে প্রতিদিনই বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক, চিন্তাবিদ ও কবিরা অংশ নেবেন। একাডেমির নিজস্ব দুটি ক্যান্টিন দর্শকদের জন্য সবসময় খোলা থাকবে।

বাংলা একাডেমি চত্বর ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট জায়গা জুড়ে আয়োজন করা হয়েছে এবারের মেলা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৬টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮৩টি ইউনিটসহ মোট ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বইমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটো মূল প্রবেশপথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের ছয়টি পথ থাকবে।

বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন