বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৫:৫৪:০৮ পিএম

‘ওই সাংবাদিক আছে এখানে? কই? আছে?’

রাজনীতি | বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৯:২৫:৫৭ পিএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে যে কথা বলেননি, সেই কথাই একটি গণমাধ্যম তুলে ধরেছে জানিয়ে ক্ষোভ ঝেরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বলেছেন, ভুল একটি সংবাদের জন্য তাকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অসন্তোষের কথা জানান মন্ত্রী। যে ধরনের কথা তার বরাত দিয়ে পত্রিকায় এসেছে, তেমন কথা বলার মতো আহাম্মক কি না, সেটাও জানতে চান তোফায়েল।

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এই আইনের ৩২ ধারায় বলা আছে, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় বিনা অনুমতিতে রেকর্ড করলে সাজা পেতে হবে।

পরদিন বিষয়টি নিয়ে তোফায়েল আহমেদের বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। সেদিন তিনি যা বলেছিলেন সেটি প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়।

কিন্তু একটি অনলাইন সংবাদপত্রে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, এমপিদের মান ইজ্জত রক্ষা করতে এমন আইন করা হচ্ছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ তোফায়েল বলেন, ‘আমি কি বলেছি সংসদ সদ্যদের মান ইজ্জত রক্ষা করার জন্যই ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়েছে? এটা কি ঠিক? আচ্ছা আমি যে বক্তব্য দেই এটার রেকর্ড আপনাদের কাছে থাকে না? সেদিনের একটা রেকর্ড এনে আমাকে দেখান। আমি বলেছি, এমপিদের মান ইজ্জত রক্ষা করতেই এ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন?’।

সাংবাদিকদেরকে তোফায়েল তিনি বলেন, ‘আপনারা তো সেদিন ছিলেন। সবগুলো গণমাধ্যম একরকম লিখল। আর একটি মাত্র গণমাধ্যম আরেক রকম লিখল।’

পত্রিকার কাটিং দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই যে দেখেন, এখানে ওই দিনের সব পত্রিকার কাটিং আছে। একটা পত্রিকাও তো লেখে নাই, আমি এ কথা বলেছি। একটা টেলিভিশনও এভাবে বলেনি। অথচ বাংলা ট্রিবিউন নামে একটি পত্রিকা এভাবে লিখেছে।’

‘ওই সাংবাদিক আছে এখানে? কই? আছে?’ এভাবে সম্মেলন কক্ষে প্রতিবেদককে খুঁজতে থাকেন তোফায়েল আহমেদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘আচ্ছা আপনারাই বলুন,আমি কি আহাম্মক? আমি কি লেখাপড়া জানি না? আমি কি এসব নিয়ে পড়াশুনা করি না? পড়াশুনা করে গত রাতেও তো রাত একটার সময় ঘুমিয়েছি। আমি কি একথা বলেছি?’।

‘হ্যাঁ, আইনটা এখনো ফাইনাল নয়। পার্লামেন্টে যাবে সেখানে মন্ত্রী যখন প্লেস করবেন তখন সেটা যাবে সংসদীয় কমিটিতে। সেখানে আলোচনা করার পরে কাটছাট করে হয়তো পুরোটা থাকবে অথবা বাদও যাবে। তারপর আসবে আবার পার্লামেন্টে। তখন আইনটা পাস হবে। লং ওয়ে টু গো।’

তোফায়েল বলেন, ‘দেখেন আমার মতো একজন লোক, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কথা পত্রিকায় বলা হবে কেন? আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমি বিষয়টা আপনাদের বিবেকের উপর ছেড়ে দিলাম। এইভাবে নিউজ করা তো ঠিক নয়।’

‘একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বলা তো আমার হৃদয় কাঁপে। সে তো আমার ভাই। আমি সাংবাদিকদের আদরও করি, স্নেহ করি।’

‘আমি এ বিষয়গুলো রিপোর্ট করার জন্য বলিনি’- এমন কথা উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, ‘আমি বলেছি আপনাদের জানানোর জন্য। বিষয়টা নিয়ে আমাকে অনেক বড় বড় সাংবাদিক ফোন করেছে। তারা আমাকে বলছে, আপনার মতো একজন মানুষ এমন খারাপ কথা বললেন? এমনকি আমার আরও দুই প্রিয় সাংবাদিক বললো আপনার কাছে তো এমন কথা আশা করিনি। আমাকে কীভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন করা হলো?’।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদেরই একজন। আমি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাই। সাংবাদিকদের সাথে আমার নিবির সম্পর্ক। আমি আপনাদের স্নেহ করি। আপনারাও আমাকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করেন ‘

‘আমি রাজনীতি করি। ব্যবসাও করি না। বাণিজ্যও করি না। সততার সাথে নিষ্ঠার সাথে থাকার চেষ্টা করি। আমাদের কথাগুলো যদি সঠিকভাবে আসে। তাহলে খুব ভাল হয়।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন