মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ ০৬:২৯:৩৬ এএম

সুযোগ হাত ছাড়ায় সঙ্গী হলো হতাশা

খেলাধুলা | ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১০:১০:৪৮ পিএম


কুশাল মেন্ডিস নিজের নামের পাশে ব্রাকেটে ‘ভাগ্যবান’ শব্দটা চাইলেই যোগ করে দিতে পারেন! দুই-দুইবার ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পর দুটি রিভিউয়ের আবেদনও গেছে তার পক্ষে! এক ইনিংসে এতো সুযোগ কতজন ব্যাটসম্যান পান?

নিজের প্রথম ওভারে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ মুস্তাফিজের বলে ৪ রানে স্লিপে কুশল মেন্ডিসের প্রথম ক্যাচ ছাড়েন। পরবর্তীতে মিরাজের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারে স্লিপে ক্যাচ মিস করেন ইমরুল কায়েস। ততক্ষণে তার রান ৫৭।

দিনের শেষ ঘন্টায় তাইজুলের ঘূর্ণিতে বারবার পরাস্ত হচ্ছিলেন মেন্ডিস। ৩৬তম ওভারের পঞ্চম বলে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন মেন্ডিস। বল আঘাত করে প্যাডে। আম্পায়ার ইরাসমাস সাড়া না দেওয়ায় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে মানিয়ে রিভিউয়ের আবেদন করেন তাইজুল। সব কিছুই ছিল ঠিকঠাক। বল ইনসাইড পিচ করেছিল, ইমপ্যাক্টও ছিল ইনসাইড। কিন্তু স্ট্যাম্পের থেকে সামান্য উপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। মেন্ডিস বেঁচে যান ৭১ রানে।

পাঁচ ওভার পর আবারও মেন্ডিসের উইকেটের জন্য আবেদন বাংলাদেশের। এবারও ইরাসমাস দেননি সাড়া। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশ নেয় রিভিউ। এবার এলবিডব্লিউ নয় অবশ্য, উইকেটের পিছনে ক্যাচের আবেদন। ৭৫ রানে থাকা মেন্ডিসের পক্ষে গেল রিভিউ। লিটনের হাতে জমা হওয়ার আগে কোনো কিছুতেই স্পর্শ করেনি বল।


দিন শেষে শুধু কুশল মেন্ডিসই আক্ষেপ হয়ে থাকেনি বাংলাদেশের জন্য। স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ না করতেই উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা দিন শেষে ১ উইকেটে করেছে ১৮৭ রান। কুশল মেন্ডিস ৮৩ ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা সেঞ্চুরি তুলে অপরাজিত ১০৪ রানে। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের থেকে ৩২৬ রানে পিছিয়ে লঙ্কানরা। ৪ উইকেটে ৩৭৪ রানে দিন শুরু করা বাংলাদেশ আজ ১৩৯ রান যোগ করতেই হারিয়েছে ৬ উইকেট। সব মিলিয়ে রান ৫১৩ যা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পুরো দিনের পারফরম্যান্সের বিচারে বাংলাদেশের জন্য আজ গেছে হতাশার দিন।

ব্যাটিং-বোলিংয়ে হতাশার দিনটি শুরু হয়েছিল মুমিনুল হকের আউট দিয়ে। ১৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুমিনুল তৃতীয় বলে রানের খাতা খুললেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দিনের তৃতীয় ওভারে হেরাথের বলে ক্যাচ দেন শর্ট লেগে। তামিম ইকবাল গতকাল যে ‘ব্যাটিং ধসের’ ভয় পেয়েছিলেন তা মুহুর্তেই যেন ফিরে এসেছিল। অহেতুক শট খেলতে গিয়ে মোসাদ্দেক (৮) ক্যাচ দেন লং অনে। ২০ রান করা মিরাজ আউট হন রান আউটে।

সানজামুলকে সাথে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ অষ্টম উইকেটে জুটি বাঁধেন ৫৮ রানের। ওই জুটিতেই পঞ্চাশ রানের স্বাদ পান মাহমুদউল্লাহ। ফিফটিকে তিন অঙ্কে রূপ দিতে চেষ্টা করে গিয়েছিলেন মাহমু্দউল্লাহ। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে পারেননি। সানজামুল (২৪) সান্দাকানের বলে আউট হওয়ার পরপরই তাইজুলকে (১) বোল্ড করেন হেরাথ। মুস্তাফিজ কিছুটা আশা দেখিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহকে। তাদের দুজনের ৩৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে সপ্তমবারের মতো পাঁচ’শ রানের ঘরে পৌঁছালেও মাহমুদউল্লাহ পাননি সেঞ্চুরির স্বাদ। লাকমালের বলে মুস্তাফিজ (৮) আউট হলে মাহমুদউল্লাহ ৮৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ১৩৪ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৮৩ রানের ইনিংসটি সাজান ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সফল রঙ্গনা হেরাথ এবারও নিয়েছেন ৩ উইকেট। তার সাথে ৩ উইকেট পেয়েছেন পেসার লাকমাল।

ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পাওয়ার পর বোলিংয়েও দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের। মিরাজ দ্বিতীয় ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট দিমুথ করুণারত্মে। নতুন বলে শুরু থেকেই স্পিনাররা বল টার্ন পাচ্ছিলেন। সুযোগটিকে কাজে লাগাতে সানজামুল ও মেহেদী দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে চেপে ধরেন। কিন্তু প্রথম ঘন্টা স্ট্রাগল করার পর ব্যাটসম্যানদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আক্রমণত্মক ফিল্ডিংও কোনো কাজে আসেনি। বরং দুই ব্যাটসম্যানের আগ্রসনে কিছুটা চাপে পড়েছিল টিম ম্যানেজম্যান্টের এক পেসার খেলার সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় দিনে ১৫ ওভার বোলিং করা অভিষিক্ত সানজামুল দিয়েছেন ৫২ রান। লেগ স্ট্যাম্পের উপরে বারবার শর্ট ডেলিভারি করে মারও খেয়েছেন সানজামুল। তাইজুল ইসলাম প্রথম স্পেলে ভালো করতে না পারলেও শেষ বিকেলে ঠিকই ফিরেন স্বরূপে। সুযোগ সৃষ্টি করলেও সেগুলো কোনো কাজে আসেনি।

ব্যাট-বলে বাংলাদেশ হতাশার একটি দিন কাটালেও রহস্য হয়ে রইল সাগরিকার উইকেট। দুই দল স্পিন নির্ভর একাদশ সাজালেও এখন পর্যন্ত ভালো কোনো ইঙ্গিত পাননি স্পিনাররা। দ্বিতীয় দিনে ভাঙেনি উইকেট। তৃতীয় দিন থেকে কি স্বাগতিক স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাবে? উত্তরটা দেয়া যাবে আগামীকালই।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন